, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

চট্টগ্রামে গ্রাফিতি আঁকতে বাধা, এনসিপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি


আজ দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকায় গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এনসিপির কর্মীরা।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :১৮ মে, ২০২৬ ৪:২৪ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকায় গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।

আজ সোমবার দুপুর ১টার দিকে টাইগারপাস মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নিলেও কিছুক্ষণ পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে আজ সকালে নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত মূল সড়ক ও আশপাশ এলাকায় মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। তবে আজ সন্ধ্যায় সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় সিএমপি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে কয়েকজন এনসিপি কর্মী টাইগারপাস মোড় এলাকায় নতুন করে গ্রাফিতি আঁকতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তিনজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

সিএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় তিনজনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এখন আবার নতুন করে স্বৈরাচারী আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে নেবো না।

তাদের দাবি, গ্রাফিতিগুলো কেবল দেয়ালচিত্র নয়; বরং আন্দোলনের স্মৃতি, তরুণদের প্রতিবাদ এবং আত্মত্যাগের প্রতীক। তাই এসব গ্রাফিতি আঁকতে বাধা দেওয়া বা অপসারণের চেষ্টা সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করছে।

এর আগে, একই এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি অপসারণের অভিযোগ ঘিরে রোববার রাত থেকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ঘটনায় এনসিপি ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নগরীর টাইগারপাস এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (ফ্লাইওভার) কয়েকটি পিলারে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে হলুদ ও সাদা রং করা হয়, যেগুলোতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি ছিল।

সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশে সেই চিত্রকর্ম মুছে ফেলা হয়েছে এমন অভিযোগে গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর বিক্ষোভে নামেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।

টাইগারপাস মোড়ে বিক্ষোভ চলাকালে এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোর্টের রায়ে মেয়র, অবৈধ মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ যে শেষ হয়ে গিয়েছিল তা আমরা জানতাম। কিন্তু তার যে মেধার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল তা আমরা জানতাম না। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে দিয়ে সেখানে আবার লিখে দেয়, বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন। এটা নিশ্চিত যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার কাজটা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।’

 

এই এনসিপি নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘মেয়র বিপ্লব উদ্যান দখল করে সেখানে একটা চারতলা মার্কেট করতেছেন। তিনি নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ডিজিটাল স্ক্রিন বসাচ্ছেন। ফ্লাইওভার থেকে শুরু করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিজ্ঞাপন আর বিজ্ঞাপন। শেষ পর্যন্ত তার লোভ এতো বেশি হয়ে গেছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে দিয়ে সেখানে লিখে দিয়েছে বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন।’

মেয়র ডা. শাহাদাতকে উদ্দেশ করে আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘আপনার মেয়াদ চলে গেছে। আপনি নেমে যান। হাসিনার মতো বসে থাকবেন না।’

ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে এনসিপি নেতা এমন বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে একই এলাকায় রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

একপর্যায়ে রাত ১১টার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা টাইগার পাস এলাকায় এবং ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা লালখান বাজার মোড়ে অবস্থান নেয়। এসময় দুই পক্ষের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে রাত ১২টার দিকে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন লালখান বাজার মোড়ে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

এসময় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চব্বিশের আন্দোলনে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শহীদ ওয়াসিম আকরাম আমার কর্মী। জুলাই-অগাস্টের সেন্টিমেন্ট আমার চেয়ে বেশি কেউ ধারণ করে না। মায়াকান্না যারা দেখাতে আসেন, আমার সঙ্গে দেখাবেন না।’

সিটি মেয়র বলেন, ‘ওই দেয়ালে প্রচুর পোস্টার পড়েছিল। গ্রাফিতি মুছে গিয়েছিল। দুপুরে এনসিপির ছেলেরা এসেছিল, তাদের বলেছি, নতুন করে আর্ট কলেজের ছেলেদের দিয়ে গ্রাফিতি করে দেব। সিটি কর্পোরেশন অথবা আমি নিজে টাকা দিবো। তারা হাসি মুখে চলে গেছে।’

আরও পড়ুন: ডা. শাহাদাত এখন কীভাবে মেয়র পদে আছেন?

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর