, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

ডা. শাহাদাত এখন কীভাবে মেয়র পদে আছেন?


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৯:১৫ : অপরাহ্ণ

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু ডা. শাহাদাত হোসেন এখনো মেয়র পদে আছেন। তিনি এখন কোন আইনের ভিত্তিতে মেয়র পদে আছেন তা নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। ডা. শাহাদাতের মেয়াদ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলছে, আদালতের রায়ের ফলে ডা. শাহাদাত নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত মেয়র পদে থাকতে পারবেন। কিন্তু ডা. শাহাদাত দাবি করছেন, তার মেয়াদ পাঁচ বছর। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও মেয়র ডা. শাহাদাতের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র নির্বাচিত ঘোষণা করে আর রেজাউল করিমকে নির্বাচিত ঘোষণা বাতিল করে।  ৮ অক্টোবর ডা. শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এরপর ৩ নভেম্বর তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ডা. শাহাদাতকে শপথ পড়ান।

আইন অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ ধরা হয় প্রথম সাধারণ সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৬ষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ শেষ হয়নি।

নির্বাচন কমিশনের গেজেটে রেজাউল করিমের পরিবর্তে ডা. শাহাদাতের নাম প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অর্থাৎ, রেজাউল করিমকে মেয়র ঘোষণার যে গেজেট প্রকাশ হয়েছিল সেটার নাম পরিবর্তন করে বিদ্যমান রাখা হয়েছে। কিন্তু সে গেজেট অনুযায়ী গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ডা. শাহাদাতের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ কতদিন-এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: রেজাউল মাকছুদ জাহেদী রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আদালত যেদিন রেজাউল করিমকে নির্বাচিত ঘোষণা বাতিল করেছে সেদিনই তার মেয়র পদ অকার্যকর হয়ে যায়। ফলে তার অবশিষ্ট মেয়াদ ডা. শাহাদাতের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়নি। রেজাউল করিম মেয়র থাকাকালে যদি তার মেয়াদ শেষ হয়ে যেতো তাহলে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতো। ডা. শাহাদাত যেহেতু আদালতের রায়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তাই তার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইনে (২০০৯) উল্লেখিত পাঁচ বছর মেয়াদ প্রযোজ্য হবে না। আদালতের রায়ের ফলে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়র পদে থাকতে পারবেন।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব এমন ব্যাখ্যা দিলেও ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের গেজেটে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ নিয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

কিন্তু ডা. শাহাদাত হোসেন দাবি করছেন, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে তিনি পাঁচ বছর অর্থাৎ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মেয়র পদে থাকার আইনগত সুযোগ রাখেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি মেয়াদের আগে নির্বাচনও চেয়েছেন। এরপর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নগরীর দেওয়ানবাজার ঘাটফরহাদবেগে মহানগর বিএনপির এক অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি যেদিন থেকে শপথ নিয়েছেন সেদিন থেকে পাঁচ বছর মেয়রের দায়িত্বে থাকার তার অধিকার রয়েছে।

তবে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের আদেশে ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদের বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। বিচারক কেবল ডা. শাহাদাতকে মেয়র নির্বাচিত ঘোষণা করে ১০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্বাচন কমিশনকে আদেশ দিয়েছিলেন। এমনকি স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইনের (২০০৯) কোনো ধারায় আদালতের রায়ে নির্বাচিত মেয়রের মেয়াদ নিয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ নেই।

এমন আইনি জটিলতার মধ্যে মেয়রের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। এরমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

ডা. শাহাদাতের দাবি অনুযায়ী, তার মেয়র পদের মেয়াদ যদি পাঁচ বছর হয়, তাহলে মেয়র পদে কীভাবে নির্বাচন হবে? মেয়রের মেয়াদ থাকা অবস্থায় নির্বাচন কমিশন কীভাবে তফসিল ঘোষণা করবে?

এ বিষয়ে জানতে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়রের মেয়াদের বিষয়ে আমরা এখনো কিছু জানি না। তবে বর্তমান মেয়রের মেয়াদ যদি পাঁচ বছর থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে মেয়র পদে তফসিল ঘোষণা হবে না। কেবল কাউন্সিলর পদে তফসিল ঘোষণা হবে।’

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। রেজাউলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়েছেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। এরপর ডা. শাহাদাত আদালতের দ্বারস্থ হন। ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে ফলাফল বাতিল চেয়ে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা ঠুকে দেন তিনি। মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা ও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিমসহ ৯ জনকে বিবাদী করা হয়।

আরও পড়ুন: পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় দুই বিএনপি নেতার ‘ষড়যন্ত্রের মিশন’ ব্যর্থ!

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর