রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশের সময় : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন গোপন তথ্য ছিল যশোর পুলিশের কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম যশোর নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। ভোরের দিকে কালো রঙের একটি প্রাইভেটকার দেখে সন্দেহ হলে তল্লাশি চালালে গাড়ির ভেতরে ইমনকে শনাক্ত করে পুলিশ। গোঁফ কেটে ফেলায় প্রথমে ইমনকে চিনতে পুলিশের বেগ পেতে হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বীকার করেন তিনি চট্টগ্রাম নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন-এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতরাত ৩টার দিকে একটি সন্দেহজনক প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ইমনসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, ডেভিড ইমন ও তার অন্যতম সহযোগী রায়হানসহ দুর্ধর্ষ এক সন্ত্রাসী চক্রকে ধরতে জেলা পুলিশের একাধিক টিম দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। তবে নোয়াখালীতে আরেক অভিযানে অল্পের জন্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় সন্ত্রাসী রায়হান। তাকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এর আগে গত ২৬ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে চার রাউন্ড গুলি ও একটি বিদেশি পিস্তলসহ ডেভিড ইমনের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. আসিফ ও সাইদুল ইসলাম আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর একটি ইন্টারনেট সেবাপ্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিল সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন। নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না পাওয়ায় তার নির্দেশে গত ১৩ জুলাই বাকলিয়া এক্সেস রোডে ওই ইন্টারনেট অফিসে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ সময় ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৫ লাখ টাকা লুট করে সন্ত্রাসীরা। এতে অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসী অংশ নেয়।
জানা গেছে, ডেভিড ইমন দুই বছরেই ৭ খুনের আসামি হয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ভেডিড ইমন নামে কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষ চিনতো না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সদস্য হিসেবে অপরাধ জগতে পরিচিতি পায় ইমন। তার বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরে। তার পিতার নাম মো. মুসা। সাধারণ কৃষকের ঘরে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। লেখাপড়াও তেমন করেনি। অল্প বয়সে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
সাজ্জাদের গ্রুপে এসে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সহজেই তার নজরে আসে ইমন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে সাজ্জাদ আলী খানের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করছে। সাজ্জাদ আলীর গ্রুপে অর্ধশতাধিক তরুণ রয়েছে।
এর আগে ‘ছোট সাজ্জাদ’ ওরফে সাজ্জাদ হোসেন এ গ্রুপের নেতৃত্ব দিত। ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান আলম নগরী ও জেলাকে ভাগ করে পৃথকভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন ও একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর খুনে সরাসরি জড়িত ছিল ইমন। এছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট আনিস ও মোহাম্মদ হাসান নামে দুইজনকে ব্রাশফায়ারে হত্যার ঘটনা ঘটে। এসব হত্যাকাণ্ডে ইমনের নাম জড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব, ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি
