, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

চট্টগ্রামে জিইসি-দেওয়ানহাট সড়কে মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা


চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি-দেওয়ানহাট সড়ক।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :১৮ মে, ২০২৬ ১২:০৪ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও আশপাশের এলাকায় মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনার কারণে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

আজ সোমবার সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ৩০ ধারার ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৮ মে থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নগরীর টাইগারপাস এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (ফ্লাইওভার) কয়েকটি পিলারে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে হলুদ ও সাদা রং করা হয়, যেগুলোতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি ছিল।

সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশে সেই চিত্রকর্ম মুছে ফেলা হয়েছে এমন অভিযোগে গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর বিক্ষোভে নামেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।

টাইগারপাস মোড়ে বিক্ষোভ চলাকালে এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোর্টের রায়ে মেয়র, অবৈধ মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ যে শেষ হয়ে গিয়েছিল তা আমরা জানতাম। কিন্তু তার যে মেধার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল তা আমরা জানতাম না। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে দিয়ে সেখানে আবার লিখে দেয়, বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন। এটা নিশ্চিত যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার কাজটা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।’

 

এই এনসিপি নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘মেয়র বিপ্লব উদ্যান দখল করে সেখানে একটা চারতলা মার্কেট করতেছেন। তিনি নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ডিজিটাল স্ক্রিন বসাচ্ছেন। ফ্লাইওভার থেকে শুরু করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিজ্ঞাপন আর বিজ্ঞাপন। শেষ পর্যন্ত তার লোভ এতো বেশি হয়ে গেছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে দিয়ে সেখানে লিখে দিয়েছে বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন।’

মেয়র ডা. শাহাদাতকে উদ্দেশ করে আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘আপনার মেয়াদ চলে গেছে। আপনি নেমে যান। হাসিনার মতো বসে থাকবেন না।’

ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে এনসিপি নেতা এমন বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে একই এলাকায় রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

একপর্যায়ে রাত ১১টার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা টাইগার পাস এলাকায় এবং ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা লালখান বাজার মোড়ে অবস্থান নেয়। এসময় দুই পক্ষের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে রাত ১২টার দিকে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন লালখান বাজার মোড়ে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

এসময় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চব্বিশের আন্দোলনে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শহীদ ওয়াসিম আকরাম আমার কর্মী। জুলাই-অগাস্টের সেন্টিমেন্ট আমার চেয়ে বেশি কেউ ধারণ করে না। মায়াকান্না যারা দেখাতে আসেন, আমার সঙ্গে দেখাবেন না।’

সিটি মেয়র বলেন, ‘ওই দেয়ালে প্রচুর পোস্টার পড়েছিল। গ্রাফিতি মুছে গিয়েছিল। দুপুরে এনসিপির ছেলেরা এসেছিল, তাদের বলেছি, নতুন করে আর্ট কলেজের ছেলেদের দিয়ে গ্রাফিতি করে দেব। সিটি কর্পোরেশন অথবা আমি নিজে টাকা দিবো। তারা হাসি মুখে চলে গেছে।’

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় যারা

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর