রাজনীতি সংবাদ প্রতিনিধি, সিলেট
প্রকাশের সময় : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা ১০০ জনের নামে মামলা হয়েছে।
আজ বুধবার রাত ৯টার দিকে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া ফাঁড়িতে মামলাটি করেন।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ অভিযোগ গ্রহণ করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও জেলা শহরে এনসিপির কর্মসূচি ছিল। এতে এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন।
সন্ধ্যায় জেলা শহরের সমাবেশ শেষ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হন। পথে কোর্ট মসজিদের সামনে পৌঁছালে তাদের গাড়িবহরে একদল যুবক হামলা চালান। এ সময় গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে সারজিস আলমসহ নেতা-কর্মীরা সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সারজিস আলম অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করেছেন। এতে তিনিসহ অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে রাত ১১টায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে মৌলভীবাজারে পাঠায়।
ঘটনার পর রাতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আজ হবিগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় এনসিপি। একই সঙ্গে জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই অবস্থায় আজ সকালে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এতে পাঁচজনের বেশি মানুষের একসঙ্গে জড়ো হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
এর মধ্যেই মৌলভীবাজারে দলীয় কর্মসূচি শেষে আজ বিকেলে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। প্রথমে শ্রীমঙ্গলের মুছাই এলাকায় পুলিশ তাঁদের গাড়িবহর আটকে দেয়। পরে দীর্ঘক্ষণ ধস্তাধস্তি ও বাগ্বিতণ্ডার পর তাঁরা সে স্থান অতিক্রম করেন।
এরপর বাহুবল উপজেলার রশিদপুর এলাকায় তাদের আবারও আটকে দেওয়া হয়। সেখানে আবার পুলিশ ও এনসিপি নেতাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও বাগ্বিতণ্ডা হয়। একটি ভিডিওতে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের মৌলভীবাজারে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিতে শোনা যায়। তবে এনসিপি নেতারা হবিগঞ্জে পৌঁছানোর দাবিতে অনড় ছিলেন।
একপর্যায়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ হস্তক্ষেপ করেন। পরে দীর্ঘ আলোচনার পর এনসিপির নেতারা কামাইছড়া ফাঁড়িতে মামলা করতে রাজি হন। এরপর তাদের একটি প্রতিনিধিদল সেখানে যায়।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতেই এনসিপির নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদীদের মতো আচরণ করছে। তারা দমন-পীড়ন করে বাক্স্বাধীনতা হরণ করতে চায়। আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমরা চাই, দ্রুত যেন অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়।’
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিস ও পাটওয়ারী আহত
