চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ইফতার মাহফিলে ‘অভিমান’ করে অংশ নেননি সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ইফতার মাহফিলের ব্যানারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নাম ওপরে থাকায় ডা. শাহাদাত ‘অভিমান’ করে অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) নগরীর ওয়াসা মোড়ে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠে মেজবানি ইফতারের আয়োজন করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মীর জন্য এই মেজবানি ইফতারের আয়োজন করা হয়। গরু জবাই করা হয় ৮টি। এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। বিশেষ অতিথি করা হয় তিন নেতাকে। তারা হলেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। কিন্তু অনুষ্ঠানে অংশ নেননি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি না আসায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মীর হেলাল। ডা. শাহাদাত না গেলেও সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।
জমিয়তুল ফালাহ মাঠে যখন নগর বিএনপির ইফতার মাহফিল চলছিল, তখন ডা. শাহাদাত হোসেন ছিলেন নগরীর পাঁচলাইশে কি অব চিটাগাং ক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ইফতার মাহফিলে।
নগর বিএনপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজনীতি সংবাদকে বলেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে মীর হেলালের নাম আগে থাকায় ডা. শাহাদাত অভিমান করে আসেননি। না হয় ইচ্ছা থাকলে কিছুক্ষণের জন্য হলেও তিনি অনুষ্ঠানে আসতে পারতেন। পরে তিনি এখান থেকে ড্যাবের ইফতার মাহফিলে চলে যেতে পারতেন।
এ বিষয়ে জানতে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
দলীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, ডা. শাহাদাত নগর বিএনপির ইফতার মাহফিলে অংশ না নিলেও তিনি এই অনুষ্ঠানের জন্য ২ লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন।
জানতে চাইলে নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘মীর হেলাল বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। আর ডা. শাহাদাত হোসেন হলেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পদের কোনো মূল্য আছে? তাছাড়া মীর হেলাল এখন প্রতিমন্ত্রী। সেদিক থেকেও মীর হেলালের মর্যাদা ডা. শাহাদাতের চেয়ে ওপরে। তাহলে বিশেষ অতিথি হিসেবে কার নাম আগে থাকবে?’
জানা গেছে, শুধু নগর বিএনপির এই অনুষ্ঠান নয়, সম্প্রতি আরও দুটি অনুষ্ঠানে মীর হেলালের ‘কারণে’ অংশ নেননি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। গত ৪ মার্চ চিটাগাং ক্লাবে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহিফলে মীর হেলাল ছিলেন প্রধান বক্তা আর ডা. শাহাদাত ছিলেন বিশেষ অতিথি। এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চিটাগাং ক্লাবে খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন মীর হেলাল আর ডা. শাহাদাত ছিলেন প্রধান আলোচক। এই দুটি অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত অংশ নেননি।
জানা গেছে, ডা. শাহাদাতের বয়স এখন ৬০ বছর আর মীর হেলালের বয়স এখন ৪৪ বছর। ডা. শাহাদাতের চেয়ে বয়সে ১৬ বছরের ছোট মীর হেলাল। ডা. শাহাদাতের রাজনীতির বয়সও মীর হেলালের চেয়ে বেশি। ডা. শাহাদাত একটানা ১৪ বছর নগর বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন। বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। এখন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে আছেন তিনি। অপরদিকে মীর হেলালের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ডা. শাহাদাতের মতো বর্ণাঢ্য নয়। তিনি প্রথমে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। এখন চট্টগ্রাম বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে মীর হেলাল এখন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হয়ে ডা. শাহাদাতকে ছাড়িয়ে গেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মীর হেলালের ‘উত্থান’ মেনে নিতে পারছেন না ডা. শাহাদাত। মীর হেলালের সঙ্গে ডা. শাহাদাতের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব চলে আসছে গত দুই বছর ধরে। ২০২৪ সালের ৭ জুলাই ডা. শাহাদাত হোসেনকে নগর বিএনপির নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে মীর হেলালের ‘ষড়যন্ত্র’ ছিল বলে মনে করেন তিনি। এই কারণে মীর হেলালের ওপর ডা. শাহাদাত ‘চরম ক্ষুব্ধ’।
আরও পড়ুন: ডা. শাহাদাত এখন কীভাবে মেয়র পদে আছেন?
