আন্দোলনের মাধ্যমে গণরায় বাস্তবায়ন করার হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আমরা কাউকে বিদায় দিতে চায় না। কিন্তু কেউ নিজ থেকেই যদি বিদায় নিতে চায়, তাহলে আমরা কি তাকে ইয়াসিন সুরা পড়ে ফুঁ দিয়ে পানি খাওয়াবো?’
আজ শনিবার রাত ৯টায় চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে ছয় দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা লং মার্চ শুরু করেন। এই লং মার্চ ঘিরে পথে পথে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। 
নারায়ণগঞ্জের কাচপুর, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে আয়োজিত পথসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। বিভিন্ন এলাকায় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে জোটের নেতাদের স্বাগত জানান সমর্থকরা। লং মার্চের বহর রাত সোয়া ৮টার দিকে চট্টগ্রামে প্রবেশ করে।
লং মার্চের সমাপনী সমাবেশে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এবারের লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করার জন্য। কিন্তু বাকিগুলো এ রকম হবে না। এখন পর্যন্ত আঙুল সোজা। কিন্তু আঙুল বাঁকাতে বাধ্য করবেন না।’
গণরায় মেনে না নিয়ে সরকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও গাদ্দারি করছে দাবি করে জামায়াত আমীর বলেন, ‘আমরা থামবো না। বিরতি দেব না। বাংলাদেশে পরিবর্তন আসবেই। লড়াইয়ে জনগণ বিজয়ী হবে। ফ্যাসিবাদীরা হেরে যাবে।’
বিভিন্ন গুম ও খুনের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমীর বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, এসব গুম-খুনের বিচার হবে। এই সরকার না করলে জনগণের সরকারকে দিয়ে এটা করানো হবে।’
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘অতীতে অনেক সরকার এসেছে। কিন্তু কখনো ছয় মাস পর কাউকে বলতে শুনিনি, সরকার টিকবে না।’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এলডিপি সভাপতি বলেন, ‘১১ দলের পক্ষ থেকে আপনার ভয় নাই। আপনার সমস্যা, আপনার আশপাশের লোকজন।’
অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা উগ্রবাদী নই। আমরা মৌলবাদী। একজন হিন্দু, একজন খ্রিষ্টানও মৌলবাদী।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিরোধী দল সহযোগিতা না করলে তারেক রহমান সরকার চালাতে পারবেন না। বিষয়টা মেনে নেন।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘মানুষ বিকল্প খুঁজছে। আজকের লংমার্চে সেই বিকল্প কারা, তা দেখা গেছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। নতুন করে কাউকেও ফ্যাসিস্ট হতে দেওয়া হবে না।’
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লংমার্চ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা রয়েছে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনা
