, | |

মূলপাতা আঞ্চলিক রাজনীতি

‘অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রামকে স্বর্ণ দিয়ে মুড়িয়ে দেবেন’


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম প্রকাশের সময় :১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:০২ : পূর্বাহ্ণ

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সিলেটের মতো বন্দর নগরী চট্টগ্রামকে স্বর্ণ দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ দাবি জানান।

দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সমাবেশ ও র‍্যালির আয়োজন করে নগর বিএনপি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। সমাবেশ পরিচালনা করেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

সমাবেশে হাজারো নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। নগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে শত শত নেতাকর্মী ব্যানার-ফেস্টুন সহকারে মিছিল নিয়ে সমাবেশে উপস্থিত হন। অনেক ওয়ার্ড থেকে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে সমাবেশে অংশ নেন। নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিকেলের পর সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

‘অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রামকে স্বর্ণ দিয়ে মুড়িয়ে দেবেন’

সমাবেশে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখার আগে তাকে উদ্দেশ করে নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ‘প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সিলেটকে স্বর্ণ দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা আশা করবো, আমাদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও সিলেটের মতো চট্টগ্রামকে স্বর্ণ দিয়ে মুড়িয়ে দেবেন।’

নাজিমুর রহমানের এ কথা শুনে মঞ্চে উপস্থিত আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী হাসিতে ফেটে পড়েন।

এরপর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্যের রাখতে গিয়ে বিগত ১৭ বছর চট্টগ্রামের রাজপথে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের দিকে তাকিয়ে নগর বিএনপির সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘এখানে যারা উপস্থিত আছেন সবাই পরিচিত মুখ। আপনাদের দেখে দীর্ঘ আন্দোলনের কথা মনে পড়েছে। কেউ আমাদের সাথে জেল কেটেছেন, কেউ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কেউ পঙ্গু হয়েছেন, কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন। যারা বেঁচে আছে তাদের মুখগুলো আজকে আমার সামনে দেখতে পাচ্ছি। আমার খুবই আনন্দ লাগছে, ভালো লাগছে। এখন সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নেতাকর্মীদের সময় দিতে পারি না। আগে আপনাদের সাথে যে সময় কাটাতাম তা এখন পারছি না। এজন্য আমি খুবই দুঃখিত।’

আমির খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন বারবার গর্তের মধ্যে পড়েছে তখন একটি দল (বিএনপি) বাংলাদেশকে বাঁচিয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশের মানুষ ত্যাগ স্বীকার করেছে, এই সরকার দেশের মানুষের সেই আকাঙ্খা পরিপূর্ণভাবে পালন করবে। দেশের অর্থনীতির খারাপ সময়ে তারেক রহমান সাহেব যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন, যে বড় বাজেট দিয়েছেন এই সাহস কোনো রাজনৈতিক দলের নেই। তারেক রহমান সাহেবের নেতৃত্বে আমরা সাহসী ভূমিকা পালন করেছি।’

সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘শুনছি ৫ সেপ্টেম্বর নাকি এক হাজার গাড়ি নিয়ে একটি র‌্যালি হবে। দেশে তেল নেই, গ্যাস নেই-এমন কথা যারা বলেন, তাদের এক হাজার গাড়ির র‌্যালির জন্য দুই লাখ লিটার তেল লাগবে। এটাই বাংলাদেশের রাজনীতির হিপোক্রেসি। তাদের অন্তরে এক, মুখে আরেক। তারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।’

সমাবেশে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেননি, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বহুমতের রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির পথও করে দিয়েছিলেন। তার রাজনৈতিক চিন্তা ও দর্শন ধারণ করে বর্তমান প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে হবে।’

সমাবেশ শেষে একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চত্বর থেকে নিউমার্কেট হয়ে লালদীঘি গিয়ে শেষ হয়।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম সিটির মেয়র পদে বিএনপিতে আলোচনায় দুই নাম

Rajniti Sangbad


আরও খবর