, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০ মিলিয়ন ডলারের রাডার ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান


দক্ষিণ কোরিয়া, গুয়ামসহ বিশ্বের মাত্র আটটি জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রের থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :৭ মার্চ, ২০২৬ ১:৫৫ : অপরাহ্ণ

জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড (THAAD)-এর একটি শক্তিশালী রাডার ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই এএন/টিপিওয়াই-২ (AN/TPY-2) রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্প্রতি এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

গবেষণা সংস্থা ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস’-এর তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চ জর্ডানে দুটি ইরানি হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে সেগুলো প্রতিহত করার দাবি করা হলেও পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রে রাডার ও এর সহযোগী সরঞ্জামগুলো ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, থাড রাডারের ওপর এই সফল আঘাত ইরানের অন্যতম বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থাটি মূলত বায়ুমণ্ডলের কিনারে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। বর্তমানে এই রাডারটি অকেজো হয়ে পড়ায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব এখন ‘প্যাট্রিয়ট’ সিস্টেমের ওপর বর্তাবে। তবে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমে ব্যবহৃত পিএসি-৩ (PAC-3) ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগে থেকেই কম থাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো জানান, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাত্র আটটি থাড ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটি ইউনিটের দাম প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধুমাত্র রাডারটির দামই ৩০০ মিলিয়ন ডলার। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্তত নয়টি ইউনিটের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ইউনিট রয়েছে এবং এই মুহূর্তে কোনো অতিরিক্ত রাডার হাতে নেই।

 

একটি থাড ব্যাটারিতে সাধারণত ৯০ জন সেনাসদস্য, ছয়টি ট্রাক-মাউন্টেড লঞ্চার, ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি টিপিওয়াই-২ রাডার থাকে। এর প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন খরচ প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে এই উন্নত ইন্টারসেপ্টরগুলোর মজুত বিপজ্জনকভাবে ফুরিয়ে আসছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স-এর মতো শীর্ষ প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে পেন্টাগন। এর আগে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি আর্লি ওয়ার্নিং রাডারও ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একের পর এক রাডার ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কৌশল নতুন করে সাজানোর চাপ বাড়ছে।

আরও পড়ুন: ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ বেঁচে আছেন

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর