রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশের সময় : ১৪ জুলাই ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
আগামী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কখন হবে তা এখনো ঘোষণা করেনি সরকার। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিএনপির সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা নানাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এলাকার বিভিন্ন স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার সাঁটিয়ে মানুষের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন তারা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
নগরীর ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে বিএনপির সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন তিনজন। এরা হলেন-আকবর শাহ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার সেলিম এবং ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান চৌধুরী ও যুগ্ম আহ্বায়ক এস. এম জিয়া উল হুদা (শাহরিয়ার জিয়া)। এদের মধ্যে সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকাবাসীর নজর কেড়েছেন তরুণ বিএনপি নেতা শাহরিয়ার জিয়া। সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে দলীয় মহলেও আলোচনায় রয়েছেন তিনি।
২০২১ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন আব্দুস সাত্তার সেলিম। কিন্তু তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেননি। এমনকি তিনি প্রার্থী হয়ে ভোটও দিতে পারেননি। ভোটের মাঠেও তেমন তৎপরতা ছিল না তার। নির্বাচনে ৮১৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জহিরুল আলম জসিম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল আবসার মিয়া। তিনি ৪ হাজার ৬১০ ভোট পান।
২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ সহযোগিতা করার অভিযোগে আব্দুস সাত্তার সেলিমকে বহিষ্কার করে মহানগর বিএনপি। তবে সপ্তাহ খানেক পর সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
আব্দুস সাত্তার সেলিমের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠিতে। তবে তার জন্ম হয়েছে চট্টগ্রামে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছেন। তার বয়স এখন ৭১ বছর। আগামী নির্বাচনেও তিনি এই ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী হতে আগ্রহী। তবে এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার কোনো তৎপরতা নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুস সাত্তার সেলিম রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে আমার এখন কোনো তৎপরতা নেই সেটা আমি স্বীকার করি। কিন্তু যারা এখন নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যানার-পোস্টারের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা ৫ আগস্টের আগে কোথায় ছিল? ৫ আগস্টের আগে এলাকায় তাদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। কাউন্সিলর নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা মাঠে নেমেছে। জনগণ সেটা ভাববে। দলও সেটা বিবেচনা করে মনোনয়নের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমার বিশ্বাস।’
বিএনপির আরেক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হাবিবুর রহমান চৌধুরী ২০২১ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু বঞ্চিত হন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা হাবিব এলাকায় পরিচিত মুখ। তার গ্রামের বাড়ি ফেনীতে। তবে তিনি জন্মগ্রহণ করেন চট্টগ্রামে। আগামী কাউন্সিলর নির্বাচনেও তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এলাকায় নানাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান চৌধুরী রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আমি তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন ছাত্রনেতা। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সবসময় সক্রিয় ছিলাম। মিছিল-মিটিং করতে গিয়ে হামলা-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। জেলও কেটেছি একাধিকবার। আশা করছি, দল আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।’
তবে আব্দুস সাত্তার সেলিম ও এ হাবিবুর রহমান চৌধুরীকে ছাড়িয়ে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অল্প সময়ে এলাকায় অবস্থান পোক্ত করেছেন শাহরিয়ার জিয়া। এলাকার মানুষের কাছে তিনি একজন ‘পরিচ্ছন্ন নেতা’ হিসেবে পরিচিত। বিগত ১৮ বছর ধরে তিনি নিজেদের পারিবারিক জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান ‘আলহাজ ইসহাক নুর ফাউন্ডেশন’ এর মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

২০২১ সালের কাউন্সিলর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বঞ্চিত হওয়া এ বিএনপি নেতা এবার আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন।
নগরীর অলংকার এলাকার বনেদি পরিবারের সন্তান শাহরিয়ার জিয়া। বিনয়ী, প্রাণবন্ত ও সদা হাস্যোজ্জ্বল একজন মানুষ। তিনি ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হওয়ার আগে ৬ বছর মহানগর যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
শাহরিয়ার জিয়া রাজনীতি সংবাদকে জানান, ১৯৮৮ সালে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের মাধ্যমে রাজনীতিতে তার পথচলা শুরু হয়। এরপর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে রাজনীতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। ধাপে ধাপে উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল থেকে উঠে আসা শাহরিয়ার জিয়া ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, মামলা হয়েছে একাধিক, জেলও কেটেছেন একাধিকবার।
তরুণ বিএনপি নেতা শাহরিয়ার জিয়া ঢাকা এশিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি একজন সংস্কৃতি ও শিল্পমনা মানুষ। লেখাপড়ার পাশাপাশি মডেলিং, থিয়েটার নাটক ও ব্যান্ড সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর তিনি নিজেদের পারিবারিক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে যান।
আগামী কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ৪৯ বছর বয়সী শাহরিয়ার জিয়া রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘‘ছোটবেলা থেকে আমার স্বপ্ন ছিল, আমি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের সেবা করবো। আমাদের পরিবারের এক সদস্য আগে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত মেয়রও ছিলেন। আমার দাদা, চাচা, বাবা ও বড় ভাই এই ওয়ার্ডের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। সে হিসাবে আমি ছোটবেলা থেকে নিজেকে ওইভাবে তৈরি করেছি। আমি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে নিজেদের পারিবারিক জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান ‘আলহাজ ইসহাক নুর ফাউন্ডেশন’ এর মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি।’’
তরুণ এ বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমাদের রাজনীতির গুণগত মান পরিবর্তন দরকার। এজন্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, দলের জন্য ত্যাগ, পারিবারিক অবস্থান, মনমানসিকতা-এসব বিষয় প্রাধান্য দেওয়া দরকার। এমন মানুষকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে, যিনি সরকারি তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ করবেন না, বরং সরকারি তহবিলের সাথে নিজের ব্যক্তিগত অর্থ যোগ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন।’
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অভিনব কায়দায় যুবদল নেতার চাঁদাবাজি ও জমি দখলের চেষ্টা
