রাজনীতি সংবাদ প্রতিনিধি, সিলেট
প্রকাশের সময় : ২৮ জুলাই ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। হামলায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের কোর্ট মসজিদ সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এনসিপি জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, সন্ধ্যায় সমাবেশ শেষ করে কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে নিয়ে সার্কিট হাউসে যাওয়ার সময় থানা মোড় এলাকায় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা করে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জ শহরে কেউ যদি এসে অশালীন বক্তব্য দিয়ে শহরকে অস্থিতিশীল করতে চায় তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। অন্য কেউ এর দায়ভার নেবে না। তবে আজকে অপ্রীতিকর একটি ঘটনার খবর আমি শুনেছি। এর সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। শুনেছি কোনো অশালীন বক্তব্যকে ঘিরে বিক্ষুব্ধ মানুষজন ধাওয়া দিয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদল বা বিএনপির কেউ জড়িত নয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে সোনালী ব্যাংকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। রাত ৮টায় তাদের পুলিশ উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। হামলায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও জেলা সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মুবিনসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। তাদের বহনকারী গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
এনসিপি জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, সন্ধ্যায় সমাবেশ শেষ করে কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে নিয়ে সার্কিট হাউসে যাওয়ার সময় থানা মোড় এলাকায় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা করে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জ শহরে কেউ যদি এসে অশালীন বক্তব্য দিয়ে শহরকে অস্থিতিশীল করতে চায় তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। অন্য কেউ এর দায়ভার নেবে না। তবে আজকে অপ্রীতিকর একটি ঘটনার খবর আমি শুনেছি। এর সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। শুনেছি কোনো অশালীন বক্তব্যকে ঘিরে বিক্ষুব্ধ মানুষজন ধাওয়া দিয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদল বা বিএনপির কেউ জড়িত নয়।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। কারও হাত ভেঙে গেছে, কারও মাথা ফেটে গেছে। জেলা সদস্য সচিবকে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একজনের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতালের সামনেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়।
সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হকের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, জুলাই জাগরণ পদযাত্রা ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম আজ হবিগঞ্জ আসেন। সকালে তারা আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদরে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশও হয়।
বিকেল সাড়ে ৫টায় জেলা শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে নেতারা বক্তৃতা করেন। সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় তারা সার্কিট হাউসে ফিরছিলেন। তারা সদর হাসপাতাল এলাকায় পৌঁছলে একদল যুবক ধাওয়া দেয়। তখন তাদের মধ্যে ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।
একপর্যায়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ নেতাকর্মীরা সোনালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় শাখার অভ্যন্তরে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে তাদের সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত করে রাত ৮টায় তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
