চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার কাপাসগোলা এলাকায় হিজড়া খালে পড়ে নিখোঁজ ছয় মাস বয়সী শিশুটির মরদেহ ১৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার হয়েছে।
আজ শনিবার সকাল ১০টারদিকে কাপাসগোলা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে চাক্তাই খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার দিকে চকবাজার কাপাসগোলা সড়কে মায়ের কোলে থাকা ছয় মাস বয়সী শিশুসহ তিনজনকে নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা খালে পড়ে যায়। স্থানীয়দের চেষ্টায় মা ও দাদিকে উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ শিশুটিকে তখন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
শিশুটিকে উদ্ধারে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং নৌবাহিনীর সদস্যরা খালে অভিযানে নামে। রাত তিনটা পর্যন্ত খালের বিভিন্ন অংশে নেমে ডুবুরিরা তল্লাশি করেন। এরপর আজ সকাল সাতটায় নৌবাহিনী পুনরায় অভিযান শুরু করে।
স্থানীয় লোকজন জানান, শিশুটির নাম সেহরিশ। তার মায়ের নাম সালমা বেগম। বাবার নাম মো. শহিদ। তারা নগরের আছদগঞ্জ এলাকায় থাকেন। চকবাজারের কাপাসগোলা এলাকায় মো. শহিদের বোনের বাসা। সেখানেই বেড়াতে এসেছিলেন সালমা বেগম, শিশু সেহরিশ ও তার দাদি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমে উঠেছিলেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায়। তারা অটোরিকশায় উঠার পর সেটি উল্টে পড়ে যায় খালে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বলেন, খালের বিভিন্ন অংশে আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। খালের পাশেই চালক অটোরিকশাটি ঘোরাতে গিয়ে খালে ফেলে দেন। খাল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দুই নারী উঠে এলেও শিশুটিকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, নালার পাশে বাঁশের নিরাপত্তাবেষ্টনী ছিল, যা কিছুদিন আগে ‘খাল পরিষ্কারের’ অজুহাতে সরিয়ে ফেলা হয়। নগরীতে গতকাল সন্ধ্যা থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে খালের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়, আর তাতেই ঘটে এই দুর্ঘটনা।
ঘটনার পরপরই সেখানে যান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি ডুবুরি দলের তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। শিশুর পরিবারকে সান্ত্বনা জানান এবং উদ্ধারকারী দলের জন্য ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, অরক্ষিত খালের পাশে দ্রুতই নিরাপত্তা ব্যারিকেড বসানো হবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুরে খালে পড়ে পানির স্রোতে তলিয়ে যান সালেহ আহমেদ নামের এক সবজি বিক্রেতা। কিন্তু তল্লাশি চালিয়েও তার খোঁজ মেলেনি।
এরপর ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর আগ্রাবাদ শেখ মুজিব সড়কে জেক্স মার্কেটের সামনে নালায় পড়ে নিখোঁজ হন সেহেরীন মাহবুব সাদিয়া (১৯) নামের এক শিক্ষার্থী। চার ঘন্টা পর তার লাশ পাওয়া যায়। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
একই বছর নালায় পড়ে নগরীর ষোলশহর এলাকায় এক শিশু ও ২ নম্বর গেইট এলাকায় সিএনজি অটোরিকশাসহ নালায় পড়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অভিনব কায়দায় যুবদল নেতার চাঁদাবাজি ও জমি দখলের চেষ্টা
