লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি) যোগ দিয়েছেন আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) ড. চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, আমলাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি এলডিপিতে যোগ দিয়েছেন।
আজ শনিবার রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে এলডিপিতে যোগ দেন তারা। চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে দলে বরণ করে নেন এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম)।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ।
জানা গেছে, এলডিপিতে সারওয়ার্দীকে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্যের পদ দেওয়া হতে পারে।
সাভারে রানা প্লাজার উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সময় সারাদেশে ব্যাপক পরিচিতি পান চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কথিত বাইডেন-উপদেষ্টাকাণ্ডে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। ওই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কথিত উপদেষ্টা মিয়া আরেফিকে নিয়ে নয়া পল্টনে যান হাসান সারওয়ার্দী। এ ঘটনায় ৩১ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২০ সালে চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছিলো। একই বছরের শেষের দিকে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্তে নেমেছিলো।
লে. জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (অব.) একজন খেতাবধারী সেনা কর্মকর্তা। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে অসীম সাহস, ত্যাগ ও বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ‘বীর বিক্রম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
চৌকষ এই সেনা কর্মকর্তা দেশবিদেশে পরিচিত হন মূলত তার অবসরের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং সরকারকে নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু করার পর। নানা পত্রপত্রিকার খবর অনুসারে, ২০১৮ সালে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের চাকরির মেয়াদ শেষ হলে পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে আলোচনায় ছিলেন চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জেনারেল আজিজ আহমেদকে সেনাপ্রধান নিয়োগ করে সরকার।
বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই মূলত জেনারেল আজিজ (অব.) ও সরকারের সঙ্গে হাসান সারওয়ার্দীর সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে চাকরিকালীন সময়ে এর কোনো বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি। কিন্তু সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর হাসান সারওয়ার্দী বিভিন্ন সময়ে জেনারেল (অব:) আজিজ ও সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। এমনকি ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি নানা প্রশ্ন তুলেন।
জানা গেছে, লে. জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায়। তিনি এসএসএফের সাবেক মহাপরিচালক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের কমান্ড্যান্ট ও আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডক্ট্রাইন কমান্ডের (এআরটিডিওসি) জিওসি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির ব্যাটালিয়ন কমান্ডার, বাংলাদেশ রাইফেলসের পরিচালক অপারেশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তরে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন পদাতিক ডিভিশনসহ সেনাসদরের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে।
আরও পড়ুন: ডেসটিনির রফিকুল আমীনের নেতৃত্বে নতুন দল ‘আ-আম জনতা পার্টি’
