, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কেমন হবে?


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২২ মে, ২০২৬ ১০:০৩ : অপরাহ্ণ

দেশের শতবর্ষী প্রাচীন ব্যবসায়ী সংগঠন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। এ অবস্থায় ঈদের ছুটির আমেজের মধ্যে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে বন্দরনগরীর ব্যবসায়ীদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। তবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম ৫০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির প্রত্যাশা করছে।

শনিবার (২৩ মে) নগরীর আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

চিটাগাং চেম্বারের মোট চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। এগুলো হলো-অর্ডিনারি, অ্যাসোসিয়েট, টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ। চারটি ক্যাটাগরি থেকে ২৪জন পরিচালক নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপে। অর্ডিনারি থেকে ১২ জন ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপ থেকে ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়। আর টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ থেকে তিনজন করে মোট ছয়জন পরিচালক নির্বাচিত হবে। তবে এ দুটি গ্রুপে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। সমঝোতার ভিত্তিতে দুটি গ্রুপ থেকে ছয়জন পরিচালক নির্বাচিত হয়।

জানা গেছে, এবারের চেম্বারের নির্বাচনে মোট ভোটার ৬ হাজার ৭৬৫ জন। এর মধ্যে অর্ডিনারি গ্রুপে ৪ হাজার জন আর অ্যাসোসিয়েট গ্রুপে ২ হাজার ৭৬৪ জন।

জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচন শেষ হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে চেম্বারের প্রেসিডিয়াম (সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও সহসভাপতি) গঠন হবে।

এবারের চেম্বারের নির্বাচনে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম ও সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ নামে দুটি প্যানেল গঠন হয়। ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম নামের প্যানেলের লিডার হলেন চট্টগ্রামের খ্যাতনামা শিল্পপ্রতিষ্ঠান সীকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিরুল হক। এই প্যানেলের উপদেষ্টা হলেন চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছোট ভাই। আর সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ নামের অপর প্যানেলের লিডার হলেন এস এম নুরুল হক। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হকের ছোট ভাই।

নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে এবার চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত বছরের ১১ আগস্ট চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী গত বছরের ১ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটের দুই দিন আগে এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় গত ৪ এপ্রিল ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচন বোর্ড। কিন্তু আপিল বিভাগের নির্দেশে নির্বাচন আবার স্থগিত করা হয়। এরপর ২৩ মে তৃতীয়বারের মতো ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ৬ মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত করার আদেশ দেয়। চেম্বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের দুই পরিচালক প্রার্থী এস এম নুরুল হক ও আজিজুল হক এই রিট আবেদন করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট! বিকেলে চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে দেয়। এর ফলে ২৩ মে চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধা কেটে যায়।

 

আইনি লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর নির্বাচন বর্জন করেছে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির প্যানেল লিডার এস এম নুরুল হক এ ঘোষণা দেন।

গত ২২ এপ্রিল এফবিসিসিআইয়ের আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল বাণিজ্য বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী নতুন তফসিল ঘোষণা করে চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠানের আদেশ দেয়। বাণিজ্য বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী চেম্বারের সদস্যদের সরাসরি ভোটে সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সহসভাপতি এবং পরিচালক নির্বাচিত হবে।

আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণা না করায় ভোট বর্জন করেছে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। তবে নির্বাচনে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম পুরোনো তফসিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণের পক্ষে ছিলো। চেম্বারের নির্বাচন বোর্ড গত ১৮ মে পুরোনো তফসিল অনুযায়ী ভোটের তারিখ ঘোষণা করে।

সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ ভোট বর্জন করলেও নির্বাচনকে ঘিরে নগরীর বাণিজ্যিক এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা।

সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ ভোট বর্জন করায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে চেম্বারের প্রেসিডিয়াম গঠন করতে যাচ্ছে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম। কিন্তু বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পরও ৫০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির অঙ্ক কষছে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম। এ লক্ষ্যে এই প্যানেলের প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ নানাভাবে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।

জানতে চাইলে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের উপদেষ্টা আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আমাদের টার্গেট, নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এ লক্ষে আমরা নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। আমরা ব্যবসায়ীদের সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি, স্বতস্ফূর্তভাবে ব্যবসায়ীরা নির্বাচনে অংশ নেবেন।’

চেম্বারের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু এখন কেউ যদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না চায় তাহলে আমাদের কী করার আছে?’

আরও পড়ুন:

শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনে নাটকীয় মোড়!

চট্টগ্রাম সিটির মেয়র পদে বিএনপিতে আলোচনায় দুই নাম

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর