অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের একটি স্যুভেনিয়র (স্মৃতিচিহ্ন) নিয়ে ‘জোচ্চুরির’ আশ্রয় নিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে পাওয়া স্যুভেনিয়রকে তিনি ‘সম্মাননা স্মারক’ হিসেবে প্রচার করেছেন। এ নিয়ে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরাফিল খসরুকে নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-ডবলমুরিং) আসনের সংসদ সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, শাহজাহান চৌধুরী ও এনামুল হক এনাম উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু।
জানা গেছে, অনুষ্ঠানে সব অতিথিকে ফুল উৎসবের ছবি সম্বলিত স্যুভেনিয়র (স্মৃতিচিহ্ন) প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সীতাকুণ্ডে ডিসি পার্কে গত ৯ জাুয়ারি থেকে মাসব্যাপী ফুল উৎসবের আয়োজন করেছিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এই ফুল উৎসবের ছবি দিয়ে স্যুভেনিয়র তৈরি করে জেলা প্রশাসন।
ইফতার মাহফিলে অন্যান্য অতিথির মতো ইসরাফিল খসরুকেও স্যুভেনিয়র (স্মৃতিচিহ্ন) প্রদান করেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। কিন্তু এই স্যুভেনিয়রকে ‘সম্মাননা স্মারক’ হিসেবে প্রচার করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত ১১টা ৫৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে তিনি এ নিয়ে একটি পোস্ট দেন। এতে লেখা হয়-‘চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের বিশেষ আয়োজনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব ইসরাফিল খসরু। তাকে অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় হোক একসাথে পথচলা।’

পোস্টে তিনি ইফতার মাহফিলের নাম উল্লেখ না করে সেটাকে কৌশলে ‘বিশেষ আয়োজন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে ইসরাফিল খসরুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
একই বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার মো: মঈনুল হাসান রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত সব অতিথিকে স্যুভেনিয়র প্রদান করেন জেলা প্রশাসক। সেখানে ইসরাফিল খসরুকে কোনো সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়নি। তিনি কেন স্যুভেনিয়রকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে প্রচার করেছেন তা আমরা জানি না।’
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিএনপির এক সংসদ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজনীতি সংবাদকে বলেন, জেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিলে আমাকেও স্যুভেনিয়র প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু ইসরাফিল খসরু এটাকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে প্রচার করা ঠিক হয়নি। তিনি হয়তো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে স্যুভেনিয়রকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে প্রচার করেছেন। এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসককে বিতর্কিত করা হয়েছে। কারণ ইসরাফিল খসরুকে কী কারণে জেলা প্রশাসক সম্মাননা স্মারক প্রদান করবেন?
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিএনপির অপর এক সংসদ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজনীতি সংবাদকে বলেন, স্যুভেনিয়রকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে প্রচার করা জোচ্চুরি। সম্ভবত ইসরাফিল খসরু রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেকে ফোকাস করতে এই অনৈতিক কাজ করেছেন। তার মতো ব্যক্তির কাছে এটা আমরা আশা করিনি। আমাকেও তো অনুষ্ঠানে স্যুভেনিয়র প্রদান করা হয়েছে। আমি তো এটার ছবিও তুলিনি।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-ডবলমুরিং) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন ইসরাফিল খসরু। কিন্তু তাকে মনোনয়ন না দিয়ে তার বাবা আমির খসরুকে চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী করা হয়।
আরও পড়ুন: ডা. শাহাদাত এখন কীভাবে মেয়র পদে আছেন?
