আগামী ১ নভেম্বর চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের শতবর্ষী এই বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের ভোটার হতে হলে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চেম্বারের সদস্য পদ নবায়ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সদস্য পদ নবায়ন করা না গেলে চেম্বারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না ব্যবসায়ীরা।
গত ১১ আগস্ট চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৪-২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। আর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা।
জানা গেছে, চিটাগাং চেম্বারে চারটি ক্যাটাগরিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সদস্যপদ দেওয়া হয়। এগুলো হলো-অর্ডিনারি, অ্যাসোসিয়েট, টাউন অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্রেড গ্রুপ। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একটি ক্যাটাগরি থেকে সদস্যপদ নিতে পারে। তবে একজন ব্যক্তির চারটি প্রতিষ্ঠান থাকলে চারটি ক্যাটাগরি থেকে সদস্যপদ নিতে পারে।
চারটি ক্যাটাগরির মধ্যে অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার যে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সদস্যপদ নিতে পারে। তবে টাউন অ্যাসোসিয়েশনে উপজেলার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে সদস্যপদ দেওয়া হয়।
জানা গেছে, অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের মেম্বারদের সদস্য পদ নবায়নের জন্য ৫ হাজার টাকা ফি জমা দিতে হবে। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের গত বছরের মেম্বারশিপ সার্টিফিকেটের ফটোকপি, হালনাগাদ আয়কর সনদের ফটোকপি এবং হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি দাখিল করতে হবে।
চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচনে ২৪টি পরিচালক পদে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে অর্ডিনারি থেকে ১২ জন, অ্যাসোসিয়েট থেকে ৬ জন, টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৩ জন এবং ট্রেড গ্রুপ থেকে ৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়। ২৪ জন পরিচালক থেকে ভোটাভুটি কিংবা সমঝোতার ভিত্তিতে সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত হয়।
তবে নির্বাচনে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকে না। এই দুটি ক্যাটাগরিতে ডেলিগেট মেম্বাররা সমঝোতার ভিত্তিতে যে ৬ জনকে প্রার্থী করেন তারা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়।
চিটাগাং চেম্বারের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। কারণ দীর্ঘ ১২ বছর পর চেম্বারের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে। ভোটের লড়াইয়ে জিতে ১১৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ চেম্বারের নেতৃত্বে কে আসবেন তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
চিটাগাং চেম্বারের সর্বশেষ ভোটাভুটি হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ। ওই নির্বাচনে মাহবুবুল আলম-নুরুন নেওয়াজ সেলিম পরিষদ জয়লাভ করে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলো মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহীম-আবদুস সালাম ঐক্য পরিষদ। নির্বাচনে মাহবুবুল আলম-নুরুন নেওয়াজ সেলিম পরিষদ থেকে ২০ জন এবং মোরশেদ-সালাম পরিষদ থেকে মাত্র চারজন পরিচালক নির্বাচিত হন।
এর পরের পাঁচ মেয়াদের নির্বাচনে কোনো ভোটাভুটি হয়নি। বিনাভোটে চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচিত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম-১১ আসনের (বন্দর-পতেঙ্গা) আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ লতিফ প্রভাব খাটিয়ে চিটাগাং চেম্বারকে কুক্ষিগত করে রাখেন। তিনি গত ৯ বছর চেম্বারে ভোট বন্ধ করে স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর চিটাগং চেম্বার ঘিরে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামেন। চেম্বারে স্বেচ্ছাচারিতা ও পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার অভিযোগে নগরীর আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে চাপে পড়ে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর চিটাগাং চেম্বারের বিনাভোটে নির্বাচিত সকল পরিচালক পদত্যাগ করেন।
এরপর নতুন নির্বাচন আয়োজনের লক্ষে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর চিটাগাং চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আর নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মনোয়ারা বেগমকে।
আরও পড়ুন: চিটাগাং চেম্বারে মেম্বারশিপ নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতি
