, | |

মূলপাতা দেশজুড়ে

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে টাকার খনি, এবার মিললো ১২ কোটি টাকা


পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলেছে ১২ কোটি টাকারও বেশি। আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব টাকা গণনা করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
প্রকাশের সময় :৩০ আগস্ট, ২০২৫ ৮:৩২ : অপরাহ্ণ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স যেন টাকার খনি! প্রতিবার এসব দানবাক্স খুললেই পাওয়া যায় কাড়ি কাড়ি টাকা। এই মসজিদের ১৩টি দানবাক্স থেকে এবার রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া গেছে।

আজ শনিবার সকাল ৭টায় দানবাক্সগুলো খোলা হয়। দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা গণনা শেষে রাত সোয়া আটটার দিকে মোট টাকার পরিমাণ জানা যায়।

এর আগে সকাল সাতটার দিকে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। এরপর দানবাক্স থেকে বের হয়ে আসে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। টাকাগুলো প্রথমে বস্তায় ভরা হয়। এবার ৩২ বস্তা টাকা হয়। এরপর মসজিদের দ্বিতীয় তলায় টাকাগুলো মেঝেতে ঢেলে গণনা করা হয়।

টাকা গণনায় অংশ নেন সাড়ে সাড়ে চার শতাধিক কর্মী। ছিলেন মসজিদের কর্মচারী, মাদরাসার ছাত্র, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকরা। টাকা গণনা দেখতে শহরের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মসজিদে ছুটে আসেন।

প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর এই দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবার ৪ মাস ১৮ দিন পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। শুধু দানবাক্স নয়, এবার প্রথমবারের মতো চালু করা হয় অনলাইনে দানের ব্যবস্থা। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেও এসেছে ৫ লাখেরও বেশি টাকা।

এর আগে গত ১২ এপ্রিল খোলা হয়েছিল দানবাক্সগুলো। তখন ৪ মাস ১১ দিন পর ২৯টি বস্তার মধ্যে ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া যায়। এবারের পাওয়া দানের টাকা সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।

জানা গেছে, মসজিদের দানবাক্স থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান বলেন, মসজিদের দানবক্স থেকে পাওয়া টাকাগুলো ব্যাংকে রাখা হয়। সেখান থেকে যে লভ্যাংশ পাওয়া যায় তা দিয়ে এই অঞ্চলের মসজিদ-মাদ্রাসা উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। একই সঙ্গে জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত মানুষদের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই শেষে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।

কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ ভূমির ওপর তিন তলা বিশিষ্ট এই মসজিদটি গড়ে উঠেছে বহু বছর আগে।

 

জনশ্রুতি রয়েছে, বীর যোদ্ধা ঈসা খাঁর বংশধর জিলকদর খান নামের এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বসবাস ছিল কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝপথে প্রবাহিত নরসুন্দা নদের মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা উঁচু টিলাকৃতির স্থানটিতে। মুসলিম-হিন্দু নির্বিশেষে সব ধর্মের লোকজনের যাতায়াত ছিল ওই সাধকের আস্তানায়। ওই পাগল সাধকের মৃত্যুর পর তার উপাসনালয়টিকে কামেল পাগল পীরের মসজিদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করে এলাকাবাসী।

কিন্তু ওই সাধকের মৃত্যুর পর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে সেখানে দেশের দূর-দূরান্তের লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। মানত কিংবা দান খয়রাত করলে মনের বাসনা পূরণ হয়-এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন বয়সের হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ মানত নিয়ে আসেন এই মসজিদে। এ ইতিহাস প্রায় আড়াইশ বছরেরও অধিক সময়ের বলে জানা যায়।

জানা গেছে, পাগলা মসজিদে দান করলে মনোবাসনা পূরণ হয় এমন বিশ্বাস থেকে মুসলমান ছাড়াও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন এ মসজিদে দান করে থাকেন। আর এজন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন দান করতে ছুটে আসেন। শুধু টাকা-পয়সা না, এখানে টাকার পাশাপাশি সোনা-রুপার অলঙ্কারসহ বিদেশি মুদ্রাও দান করে থাকেন। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, ফলফলাদি, মোমবাতি ও ধর্মীয় বই দান করে লোকজন। মজার বিষয় হচ্ছে, দানবক্স খুললে চিঠিপত্রও পাওয়া যায়। সেসব চিঠিতে দানকারীরা নিজেদের মনের বাসনার কথা লিখে দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১০ আগস্ট কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদ পরিদর্শনে আসেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, খুব শিগগিরই দৃষ্টিনন্দন পাগলা মসজিদের ১০ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এখানে আধুনিক তুরস্কের নকশায় বহুমুখী কার্যক্রম সম্পাদনের উপযোগী ইসলামিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে।

আরও পড়ুন: পাগলা মসজিদের কে সেই ‘পাগলা সাহেব’

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর