, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

বদলি হচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান!


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :১ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:০৫ : পূর্বাহ্ণ

অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানকে বদলি করা হচ্ছে বলে জোরালো গুঞ্জন উঠেছে। তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন পটুয়াখালী পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাসুদ ইকবাল।

চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রাজনীতি সংবাদকে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বদলির বিষয়ে জানতে রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও রিয়ার অ্যাডমিরাল মাসুদ ইকবালের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা ইস্যুতে বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের ওপর বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অসন্তুষ্ট। তার কারণে বন্দরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। চেইন অব কমান্ড কেউ মানছেন না। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দরের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও গতিশীলতা আনতে নতুন সরকার বন্দর চেয়ারম্যানকে বদলি করতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। আন্দোলনের জেরে ১৫ কর্মচারীকে খুলনার মোংলা বন্দর ও পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে বদলি করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি বদলি হওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরদিন ৯ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এসব ঘটনার কারণে বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানের ওপর চরম ক্ষুব্ধ। গত ৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

২০২৪ সালের ৭ আগস্ট রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানকে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। বন্দর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মাথায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। প্রায় ১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম, অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত বছরের ১০ জুলাই তার বিরুদ্ধে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান দল।

 

জানা গেছে, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) দপ্তরের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বন্দরে ৭২টি অনিয়ম শনাক্ত করা হয়, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৪টি অনিয়মের আর্থিক মূল্য প্রায় ২৬৫ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিহ্নিত অনিয়মগুলোর অধিকাংশই দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, মূল্যায়নে পক্ষপাতিত্ব এবং চুক্তি বাস্তবায়নের ধাপে দুর্নীতির মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। এসব গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতেই অনুসন্ধানে নামে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শেষ হয়েছে। পরবর্তী ধাপে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রাজনীতি সংবাদকে জানিয়েছে, এনসিটি ইজারা ইস্যুতে বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে তারা চেয়ারম্যানের ওপর চরম ক্ষুব্ধ। তারা যে কোনো সময় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতে পারেন। এ ছাড়া মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান করেছে দুদক। এই দুই কারণে বিদায় ঘণ্টা বাজতে যাচ্ছে মনিরুজ্জামানের। তবে তিনি বদলি ঠেকাতে রাজনৈতিক মহলের মাধ্যমে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

এদিকে চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানকে বদলির অপেক্ষার প্রহর গুনছেন চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তা রাজনীতি সংবাদকে বলেন, আমরা অপেক্ষার প্রহর গুনছি কখন মনিরুজ্জামানকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বদলি হবেন। তাকে এখান থেকে বদলি করতেই হবে। অন্যথায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহারের দাবিতে ফুঁসে উঠছেন কর্মচারীরা

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর