চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির জনসভার মঞ্চে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতন্ডা হয়েছে। বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তির দিকে উত্তেজিত হয়ে তেড়ে যান বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম। এ সময় দীপ্তিও উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পরে বিএনপির সিনিয়র নেতারা তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন।
আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জনসভা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু আগে মঞ্চে প্রবেশের কার্ড নিয়ে তাদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি যৌথ উদ্যোগে এ জনসভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পর্যন্ত নেতাদের জনসভার মঞ্চে প্রবেশের কার্ড দেওয়া হয়। সিএসএফ (চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স) থেকে এই কার্ড সরবরাহ করা হয়।
কিন্তু পলোগ্রাউন্ডে জনসভার মঞ্চে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হয়েও এই কার্ড পেয়েছেন কামরুল ইসলাম ও গাজী সিরাজ উল্লাহ। মঞ্চে প্রবেশের কার্ড নিয়ে তাদের সঙ্গে বিবাদে জড়ান মোশাররফ হোসেন দীপ্তি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রথমে জনসভার মঞ্চে উঠেছিলেন কামরুল ইসলাম ও গাজী সিরাজ উল্লাহ। তাদের দেখে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলু এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন মঞ্চে উঠে পড়েন। কিন্তু তাদের গলায় মঞ্চে প্রবেশের কার্ড ছিল না। দীপ্তি মঞ্চে উঠে কামরুল ইসলাম ও গাজী সিরাজ উল্লার সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তখন মঞ্চে বিএনপির দুই সংসদ সদস্য প্রার্থী চট্টগ্রাম-৯ আসনের আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরওয়ার জামাল নিজাম উপস্থিত ছিলেন।
মঞ্চে উপস্থিত এক বিএনপি নেতা রাজনীতি সংবাদকে জানান, দীপ্তি মঞ্চে উঠে কামরুল ইসলাম ও গাজী সিরাজকে জিজ্ঞাসা করেন, অঙ্গ সংগঠনের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি কার্ড পায়নি, তোমরা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হয়ে কীভাবে কার্ড পেয়েছো? এ কথা শুনে কামরুল ইসলাম ও গাজী সিরাজ দীপ্তির ওপর ক্ষেপে যান। তারা একে অপরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে কামরুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে দীপ্তির দিকে তেড়ে যান। দীপ্তিও উত্তেজিত হয়ে উঠেন। তার সাথে যোগ দেন নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন। এ সময় নগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর এবং তিন যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার ও কাজী বেলাল উদ্দিন তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আমি ও গাজী সিরাজকে মঞ্চে কাজ করার জন্য কার্ড দেওয়া হয়েছিল। আমরা ভোরে গিয়ে মঞ্চে চেয়ার বসানো, ব্যানার লাগানো, মাইক লাগানো যাবতীয় কাজ তদারকি করেছি। আমাদেরকে কেন কার্ড দেওয়া হলো সেটা তিনি (দীপ্তি) কৈফিয়ত চাইতে পারেন না। নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে তিনি কৈফিয়ত চাইতে পারেন। আমরা বিএনপির নেতা আর তিনি (দীপ্তি) যুবদলের নেতা।’
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গাজী সিরাজ উল্লাহ রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আমি শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান ছিলাম, তাই আমাকে মঞ্চে প্রবেশের কার্ড দেওয়া হয়েছে। জনসভা নিয়ে দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হয়েছিলো, অঙ্গ সংগঠনের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি মাঠে থাকবে। মঞ্চে বক্তৃতা দিয়ে তারা মাঠে চলে যাবে। কিন্তু অঙ্গ সংগঠনের নেতারা দলের এই সিদ্ধান্ত না মেনে জোর করে মঞ্চে উঠেছে।’
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তির মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলু রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘সাংগঠনিক পদাধিকার বলে অঙ্গ সংগঠনের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি মঞ্চে উঠার অধিকার রাখে। আর কামরুল ও গাজী সিরাজ নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হয়ে কীভাবে মঞ্চে উঠলো? শৃঙ্খলা কমিটির নেতাদের মঞ্চে কাজ কী? তারা তো মাঠে থাকার কথা।’
নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম প্রশ্ন রাখেন, ‘জনসভার শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম। গাজী সিরাজ কোন পদাধিকার বলে মঞ্চে প্রবেশের কার্ড পেলেন?’
কামরুল ইসলাম ও গাজী সিরাজ উল্লাহ নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারী।
দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুরোধে কামরুল ইসলাম ও গাজী সিরাজ উল্লাহকে মঞ্চে প্রবেশের কার্ড দেওয়া হয়।
অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের মঞ্চে প্রবেশের কার্ড না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘মঞ্চের কার্ডের তালিকায় নগর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও মহিলা দলের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির নাম ছিল। কিন্তু মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এতে আপত্তি করেন। তিনি অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের মাঠে দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব দেন। আমরা তার এই প্রস্তাবকে গ্রহণ করে অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের নাম কার্ডের তালিকা থেকে বাদ দিই। কিন্তু এটা সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো।’
আরও পড়ুন: বিএনপি ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী
