বিএনপি ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ রোববার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এই জনসভার আয়োজন করে।
এর আগে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে মুহুমুর্হু করতালিতে পুরো পলোগ্রাউন্ড মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে। হাস্যোজ্জ্বল বিএনপি চেয়ারম্যান হাত নেড়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জিজ্ঞাসা করেন, ‘অনেরা ক্যান আছন (আপনারা কেমন আছেন)?’
মঞ্চের সামনে থাকা উপস্থিত জনতা জবাব দেন-‘ভালা আছি (ভালো আছি)।’
চট্টগ্রামের সঙ্গে নিজের পারিবারিক আবেগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘এই সেই চট্টগ্রাম, সেই পূণ্যভূমি, যেখান থেকে ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পূণভূমি যেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন। এখান থেকেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পূণভূমি যেখান থেকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই চট্টগ্রাম আমার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত শহর। তাই এই চট্টগ্রাম আমার কাছে অত্যন্ত আবেগের জায়গা।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু গত ৫৫ বছরেও এই দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী হলে শুধু এই অঞ্চলের মানুষ নয়, পুরো বাংলাদেশই উপকৃত হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যত পরিকল্পনার কথা বলেছি, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে দুই বিষয়ের ওপর নজর দিতে হবে। প্রথমতো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে ব্যবসা, চাকরি ও চলাফেরা করতে পারে। বিগত সময় যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, নিজ দলের কেউ অপরাধ করলেও ছাড় দেয়নি বিএনপি। জনগণ যদি বিএনপির পাশে থাকে, আগামী দিনেও আমরা কঠোর হাতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করব। যেন দেশের সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। দ্বিতীয়ত; দুর্নীতি। বিএনপি অতীতে এটা প্রমাণ করেছে, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই দুটো বিষয় বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের জনগণের প্রাপ্য অধিকার থেকে বিগত দিনগুলোতে বঞ্চিত করেছে। অতীতে বিএনপি যতবার দেশ পরিচালনা করেছে, বিএনপি প্রমাণ করে দেখিয়েছে, এই দুটো বিষয় একমাত্র বিএনপিই সফলভাবে করতে পারে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে যেকোনো মূল্যে বিএনপি সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে-এটা দেশবাসীর কাছে আমাদের অঙ্গীকার। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যে সরকার ক্ষমতায় ছিল, তারা দুর্নীতি করে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি রোধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়। দুর্নীতি যেই করুক তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আইনের কাছে অপরাধীর আর কোনো পরিচয় নেই। বিএনপি অতীতেও প্রমাণ করেছে এগুলো।’
এর আগে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, উপজেলা, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা থেকে ব্যানার ফেস্টুন, রঙ বেরঙের পোশাক পরে পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পলোগ্রাউন্ড মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক, ফুটপাত ও খোলা জায়গাজুড়ে অবস্থান নেন তারা। হাতে দলীয় পতাকা ও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

জনসমাগম সমাবেশস্থল ছাড়িয়ে টাইগার পাস, সিআরবি ও আমতল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মাঠের ভেতর ও বাইরে মিলিয়ে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নেতাকর্মীদের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।
জনসভায় চট্টগ্রামের ১৬ আসন এবং কক্সবাজার ও পাবর্ত্য চট্টগ্রামের সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে সর্বশেষ জনসভা করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে চট্টগ্রাম সফরে এসেছেন তিনি।
তবে পলোগ্রাউন্ড মাঠে তারেক রহমানের এটি প্রথম সমাবেশ। এর আগে ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে বড় এ মাঠে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জনসভা হয়েছিল।
পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে নগরীর র্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের মেজবান হলে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শিরোনমারে আয়োজনে তরুণদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তারেক। চট্টগ্রাম ও আশেপাশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৩৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন এই ইয়ুথ পলিসি টকে। সেখানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তারেক রহমান।
আরও পড়ুন: সাঈদ আল নোমানের কাছে হেরে গেলেন আমীর খসরু!
