, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

সেদিন গণসংযোগে কেন ছিলেন ‘সন্ত্রাসী’ বাবলা, জানালেন এরশাদ উল্লাহ


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৩:১৭ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার চালিতাতলী খন্দকার পাড়া এলাকায় গত ৫ নভেম্বর গণসংযোগকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সরোয়ার হোসেন বাবলা নামে এক ‘সন্ত্রাসী’ গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। সেদিন বাবলার ঘাড় দিয়ে গুলি বের হয়ে এরশাদ উল্লার পেটেন ডান পাশে ঢুকেছিলো। গুলিতে তার কিডনি ছিদ্র হয়ে যায়। অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে সেই গুলি বের করেন চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচারের সময় তার শরীরে ৮ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়।

দীর্ঘ প্রায় ১ মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এরশাদ উল্লাহ। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দুই দিন তিনি চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে ছিলেন। কিন্তু এই হাসপাতালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকা থেকে প্রায় সুস্থ হয়ে গত ৪ ডিসেম্বর তিনি চট্টগ্রামে ফেরেন।

সেদিন গণসংযোগে এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর জনমনে প্রশ্ন উঠে, সরোয়ার হোসেন বাবলার মতো একজন দুর্ধর্ষ ‘সন্ত্রাসী’কে কেন সঙ্গে রেখেছিলেন তিনি?

এ ঘটনা নিয়ে গতকাল শনিবার রাতে নগরীর পাঁচলাইশের বাসায় রাজনীতি সংবাদের সঙ্গে কথা বলেন এরশাদ উল্লাহ ।

সেদিন গণসংযোগে আপনার সঙ্গে সন্ত্রাসী বাবলাকে কেন রেখেছিলেন-এ প্রশ্নের জবাবে এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘বাবলাকে আমি গণসংযোগে নিয়ে যাইনি। সেদিন গণসংযোগের সময় বাবলার বাড়ির পাশে খন্দকার পাড়া হযরত ইজ্জত উল্লাহ শাহ মসজিদে আমি মাগরিবের নামাজ পড়ি। এ সময় আমার সঙ্গে বাবলার বাবাও নামাজ পড়েছিলেন। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখি, বাবলা কিছু লোকজন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এ সময় সে আমাকে তার এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ করার অনুরোধ করে। আমি যেহেতু নির্বাচন করছি, তাই তার সঙ্গে ওর এলাকায় গণসংযোগ করতে যাই।’

আপনি কীভাবে গুলিবিদ্ধ হলেন-এই প্রশ্নের উত্তরে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এই আহ্বায়ক বলেন, ‘আমি সন্ত্রাসীদের টার্গেট ছিলাম না। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আমি গুলিবিদ্ধ হই। গণসংযোগকালে একজন সন্ত্রাসী আমাদের পেছন থেকে প্রথমে বাবলার ঘাড়ে ৩ রাউন্ড গুলি করে। তখন আমি হতভম্ব হয়ে যাই। এ সময় একটা গুলি বাবলার ঘাড় দিয়ে বের হয়ে আমার পেটে ঢুকে যায়। এরপর আমার পেট থেকে রক্ত বের হতে থাকে। তখন দেখি, গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা বাবলার গায়ে আরও ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা।’

এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। হাসপাতালে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে গুলি বের করে। গুলিতে আমার কিডনির একপাশে ছিদ্র হয়ে যায়। চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে আমি যথাযথ চিকিৎসা পাইনি। আমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিলো। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গুলিটা যদি আমার লিভার কিংবা ফুসফুসে লাগতো তাহলে আমার অবস্থা খুবই খারাপ হতো। মনে হয়, আল্লাহ সেদিন ফেরেশতা পাঠিয়ে আমাকে রক্ষা করেছেন।’

সেদিন গণসংযোগে কেন ছিলেন ‘সন্ত্রাসী’ বাবলা, জানালেন এরশাদ উল্লাহ
গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সরোয়ার হোসেন বাবলা

এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা গুলির আকার ও আঘাত বিশ্লেষণ করে জানান, সরোয়ার হোসেন বাবলাকে হত্যা করতে সন্ত্রাসীরা বিদেশি ৭.৬২ মিলিমিটার বোরের পিস্তল ব্যবহার করে। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

জানা গেছে, ৭.৬২ মিলিমিটার বোরের গুলি ৫ ইঞ্চি কংক্রিট ভেদ করতে সক্ষম। এটি একে-৪৭, একেএম, এসকেএস, আরপিকে মেশিনগান ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। এই অস্ত্র মূলত সামরিক বাহিনী, পুলিশ এবং বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, বিদেশে পালিয়ে থাকা দুর্ধর্ষ ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় গত ৬ নভেম্বর নিহত বাবলার বাবা আবদুল কাদের বাদী হয়ে বায়েজীদ থানায় মামলা করেন। এতে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ রায়হান, বোরহান উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, আলাউদ্দিন, মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ও হেলাল ওরফে মাছ হেলাল। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পাঁচ থেকে ১৪টি করে মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলী দীর্ঘদিন ধরে সরোয়ার হোসেন বাবলাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি গত ২ নভেম্বর সরোয়ারকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘সময় শেষ, যা খাওয়ার খেয়ে নে।’

জানা গেছে, এক সময় বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলীর শিষ্য ছিলেন সরোয়ার বাবলা। ২০১৫ সালে পৃথক দল গড়ে তোলেন তিনি। এরপর থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গুরু-শিষ্যের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে।

চালিতাতলী খন্দকার পাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকার নির্মাণাধীন ভবনে ইট-বালু সরবরাহ, প্লট ভরাট ও বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাবলাকে হত্যা করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ মার্চ নগরীর বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় একটি প্রাইভেটকারে গুলি চালিয়ে সরোয়ার বাবলাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় প্রাইভেটকারে থাকা দুজন মারা গেলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বাবলা।

আরও পড়ুন: চিটাগাং চেম্বার নির্বাচন নিয়ে দুই ব্যবসায়ী নেতার ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর