চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারসহ উভয় পক্ষের ৪০ জন আহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাউজান পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সত্তারঘাট এলাকার মূল সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
রাউজানে এ ঘটনার জেরে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্র। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পদ স্থগিত এবং পাঁচ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এরা হলেন-উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, বারইয়ার হাট পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম মিয়াজী, যুবদল নেতা সিরাজুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির ৪৩ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
রাউজানে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাম আকবর খোন্দকার বিকেলে নেতাকর্মীদের নিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক প্রয়াত সহসভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছিলেন। পথে সত্তারঘাট এলাকায় মুখোমুখি হয় গিয়াস উদ্দিন কাদেরের অনুসারীদের সঙ্গে। তাদের ৯ আগস্ট সমাবেশের প্রস্তুতি হিসেবে পূর্বনির্ধারিত মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার কর্মসূচি ছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, প্রথমে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা গোলাম আকবর খোন্দকারের গাড়িবহর লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। ওই সময়ে পাল্টা পাথর নিক্ষেপ করে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে গোলাম আকবরের অনুসারীরা। একপর্যায়ে গোলাম আকবরের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় সেখান থেকে বের হয়ে আসেন গোলাম আকবর।
আহত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আমরা রাউজানে প্রয়াত বিএনপি নেতা মহিউদ্দিনের কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছিলাম। সর্ত্তারঘাট এলাকায় পৌঁছার আগেই গিয়াস উদ্দিন কাদেরের অনুসারীরা গহিরা সড়ক বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা যখন রাউজান সত্তারহাট এলাকায় পৌঁছি তখন আমাদের ওপর তার শতাধিক অনুসারী হামলা শুরু করে। তারা এসময় গুলিও করে। তখন আমার ঘাড়ে ছররা গুলির আঘাত লাগে।
ব্যক্তিগত সহকারী অর্জুনসহ ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, গিয়াস কাদের মনেপ্রাণে বিএনপি করে না। সে বিএনপি করলে দলের নেতাকর্মীদের ওপর এভাবে হামলা করতো না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, গোলাম আকবর পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সে শান্ত রাউজানকে অশান্ত করছে বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে। সে তো প্রায় সময় রাউজানে গ্রামের বাড়িতে আসা-যাওয়া করে। আমার অনুসারীরা কেউ তো তাকে বাধা দেয়নি। তাহলে আজ কেন বাধা দেবে? তার অনুসারীরা প্রথমে আমার কর্মীদের ওপর হামলা করে, এরপর আমার কর্মীরা তাদের প্রতিরোধ করে।
ঘটনার বিষয়ে রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, একপক্ষ কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছিল, আরেকপক্ষের শোভাযাত্রা ছিল। সর্ত্তারঘাট এলাকায় গোলাম আকবর খোন্দকার তার অনুসারীদের নিয়ে গাড়িতে করে যাওয়ার সময় দুপক্ষ মুখোমুখি সংঘাতে লিপ্ত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযোগ আছে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর রাউজানে নিজেদের অধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং তাদের অনুসারীরা মরিয়া হয়ে উঠেন। এর জের ধরে গত ৮ মাসে অন্তত ১০টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আজকের ঘটনাটিও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং তা ধরে রাখার লড়াইয়ের অংশ বলে বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
রাউজানে গত বছরের ৫ আগস্টের পর সহিংসতায় মোট ১৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বিএনপির দুইপক্ষে সংঘর্ষ হয় শতাধিকবার। এসব ঘটনায় তিন শতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অভিনব কায়দায় যুবদল নেতার চাঁদাবাজি ও জমি দখলের চেষ্টা
