চট্টগ্রামের ডিসি হিলে ‘সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ’ এর বর্ষবরণের অনুষ্ঠান মঞ্চ ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ারে এ ঘটনা ঘটে।
এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর ডিসি হিলে নববর্ষের অনুষ্ঠান বাতিল করেছে আয়োজকরা।
সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের সমন্বয়কারী সুচরিত দাশ খোকন বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো ছেলে-মেয়ে এসে ‘স্বৈরাচারের দোসরেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দিচ্ছিল। একপর্যায়ে তাদের উগ্রতা দেখে আমরা একপাশে সরে দাঁড়াই। এরপর তারা ডেকোরেশনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মঞ্চের ব্যানার ও পেছনের কাপড়ও ছিঁড়ে ফেলে। এ ঘটনায় আমরা পুলিশের সহযোগিতা পাইনি। এ কারণে আমরা সোমবারের অনুষ্ঠান বাতিল করেছি।
জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আবদুল করিম বলেন, সন্ধ্যার পর কয়েকজন যুবক অনুষ্ঠান মঞ্চের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে ২০টি সংগঠনের একটি তালিকা দিয়ে ফ্যাসিস্টের দোসর অভিযোগ এনে ওই সংগঠনগুলোকে মঞ্চে তুলতে নিষেধ করে।
সকালে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার চিহ্নিত দোসরদের নেতৃত্বে বাংলা নববর্ষ অনুষ্ঠান উদযাপন আয়োজনের প্রতিবাদে’ সম্মিলিত বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংগঠন (জাসাস) ও বিএনপির সহযোগী সংগঠন মিলে মানববন্ধন করে। তারা জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে বেশ কিছু সংগঠনগুলোকে নববর্ষের অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানান।
ভাঙচুরের বর্ণনা দিয়ে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের সদস্যসচিব মোহাম্মদ আলী বলেন, সন্ধ্যার দিকে ৪০ জনের মতো একটি দল মিছিল নিয়ে আসে। তারা হাসিনার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। এ সময় ‘হাসিনার দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান, হাসিনার ফাঁসি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে মঞ্চে উঠে ভাঙচুর শুরু করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, সাতটি সংগঠন অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে থাকে। জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংগঠন (জাসাস) বলেছে তারা এই প্রোগ্রাম আয়োজন করতে দিতে চায় না। কিন্তু তারা লিখিত কোনোকিছু দেয়নি। তারা কয়েকজনের নাম দিয়েছে বলেছে এরা প্রোগ্রামে থাকতে পারবে না। পরে তারা দলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্বৈরাচারের দোসরদের প্রোগ্রাম করতে দেবে না। সন্ধ্যার দিকে এসে তারা শুধু ব্যানার খুলে নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন পরিষদের ব্যানারে এখানে বাংলা বর্ষবরণের অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। এবার অনুষ্ঠানটি ৪৭ বছরে পা রাখছে।
আরও পড়ুন: চারুকলায় আবার তৈরি হচ্ছে ‘স্বৈরাচারের প্রতিকৃতি’
