রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ৯ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

মিতু হত্যা: বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে চার্জশিট


নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম প্রকাশের সময় :১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৪:৩৩ : অপরাহ্ণ

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বাবুল আক্তারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পিবিআই।

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় চার্জশিট জমা দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কামরুল ইসলাম বলেন, মিতু হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছে পিবিআই। চার্জশিটটি নথিতে সংযুক্ত করে শিগগির আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের সুপার নাঈমা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, মোট সাতজনকে এ মামলার অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে আমরা বাবুল আক্তারকে আসামি হিসেবে পেয়েছি। আমরা আগে বারবার বলেছি হত্যাকাণ্ড কেন হয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর আমরা তদন্ত করেছি। ১ নম্বর আসামি বাবুল আক্তার কীভাবে জড়িত তা আমরা পেয়েছি।

বাকি আসামিদের নাম জানতে চাইলে নাঈমা সুলতানা বলেন, তদন্ত করে যাকে আসামি পেয়েছি, তাদেরই অভিযুক্ত করেছি। বিচার প্রক্রিয়ায় গেলে বিস্তারিত জানতে পারবেন। নো মোর কমেন্টস।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ এনে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার ও চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের এসপি নাঈমা সুলতানাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালতে মামলার আবেদন জমা দেন বাবুল আক্তারের আইনজীবী। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন-পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসপি মো. নাজমুল হাসান, খুলশী থানার ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা, সিএমপির ডিবি বন্দর জোনের সহকারী কমিশনার একেএম মহিউদ্দিন সেলিম ও পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার ইন্সপেক্টর কাজী এনায়েত কবির।

২০২১ সালের ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। এরপর থেকে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

মামলায় নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ (১) ধারা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়- ২০২১ সালের ১০ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত সময়ে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ও জেলা অফিসে বাবুল আক্তারের উপর নির্যাতন করা হয়। স্ত্রী হত্যার ঘটনায় মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য বাবুল আক্তারের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন আইনজীবীরা।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার কাছে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে ওই মামলায় ২০২১ সালের ১২ মে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা নাটকীয়তার পর ওই বছরের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বাবুলের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে তার শ্বশুরের করা মামলার অভিযোগপত্রে তাকে (বাবুল আক্তারকে) প্রধান আসামি করা হয়।

বাবুল আক্তার এখন ফেনী কারাগারে বন্দি রয়েছেন।


আরও খবর