, | |

মূলপাতা আওয়ামী লীগ

মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে আছে: কাদের


প্রকাশের সময় :১২ ডিসেম্বর, ২০২১ ৪:৩৮ : অপরাহ্ণ

‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭৫’র বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘বন্ধুত্বের প্রশ্নে স্পর্শকাতর এ বিষয়গুলোকে আমরা বাধা হয়ে দাঁড়াতে দিইনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক এবং অভিন্ন ইস্যুসহ বহুপাক্ষিক ইস্যুতে দুদেশ নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছে।’

আজ রোববার সকালে সচিবালয়ে তার দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

উল্লেখ্য, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান ৭ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ ঘটনায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সরকার।

এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত একপেশে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপন লগ্নে যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি সিদ্ধান্তে আমরা বিস্মিত এবং ব্যথিত হয়েছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত দেশের ভেতরে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করবে।’

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে খাদ্য সংকটের সময় ১৯৭৪ সালে কিউবার কাছে পাট বিক্রির অজুহাতে খাদ্যবাহী জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে, যা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। যেখানে বন্দুক হামলায় প্রতি বছর লাখো মানুষ মারা যায়, নির্বাচনে হেরে যেদেশের ক্যাপিটাল হিল দখল করতে গিয়ে পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বিশ্ববাসী দেখেছে মার্কিন গণতান্ত্রের স্বরূপ ও তাদের মানবাধিকারের চেহারা।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২০১৫ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ৬ হাজার ৬০০ জন। প্রতিবছর সেখানে প্রায় ১ হাজার মানুষ বিনা বিচারে মারা যান, যা বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিনেটর অব লেবার রবার্ট রেইচ এক টুইট বার্তায় বিশ্বকে জানিয়েছিলেন, শুধু ২০২০ সালে সেদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটেছে ৯৮৪টি।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আজ মানবাধিকার নিয়ে কথা বলছে। যাদের দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন বিভিন্ন সিটিতে রাস্তায় নামে, তাদের অন্যদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা তাদের দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আগে পর্যবেক্ষণের অনুরোধ করছি।’

আরও পড়ুন: অতীতে এ ধরনের নজির কখনো ছিল না: মির্জা ফখরুল

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর