, | |

মূলপাতা আওয়ামী লীগ

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা

কে হবেন আওয়ামী লীগের পরবর্তী সভাপতি, জানালেন হাসিনা


ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৩ : পূর্বাহ্ণ

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

দ্য ওয়ালের নির্বাহী সম্পাদক অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে নিজের দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার মতে, শেখ সেলিম এখন আওয়ামী লীগের সবচেয়ে সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য। তাই শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিমই দলীয় সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।

ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

সরকার যদি আপনাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দেয়, তাহলে আপনার কীভাবে দেশে ফেরা সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দেশটা আমার। আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছে। আমরা এই দেশেই ছোটবেলা থেকে মানুষ হয়েছি। আর রাজনীতিতো স্কুল জীবন থেকেই আমি শুরু করেছি। সেখানে আমার দেশে কেন আমাকে ফিরতে দেবে না, সেটাই আমার প্রশ্ন। বিএনপি গভর্নমেন্ট কী বলছে? তারা ভারত সরকারের কাছে চাচ্ছে আমাকে ফেরত দেওয়ার জন্য। যখন ফেরত দেয়ার কথা বলছে তখন ফেরত কেন, আমি নিজেই যাব। সেজন্যই বলেছি, আমি চলে যাব। এখন আবার বাধা দেবে কেন আর পারমিশনই বা লাগবে কেন?

দেশে ফেরার অনুমতি না দিলে কী করবেন, অন্যকোনোভাবে কি প্রবেশ করবেন? এ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সেটা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় দেশে ফেরার আগ্রহ রয়েছে বলে জানান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তবে দেশে ফিরলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে তার। শেখ হাসিনার দাবি, দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেও তাকে হত্যা করা হতে পারে।

তার দেশে ফেরার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, প্রত্যেকেরই জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই তিনি দেশে ফেরার নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চান না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণভবন থেকে ভারতে যান শেখ হাসিনা। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যে এসেছি দেশ ছেড়ে, আমি তো দেশ ছেড়ে আসতে কখনো চাইনি। আমি জানতামও না। একটা পরিস্থিতিতে আমি চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। সেটাও আমি জেনেছি অনেক পরে। যখন হেলিকপ্টারে বর্ডার ক্রস করি তখন আমাকে বলা হলো যে আমরা এখানে (ভারত) আসছি। তার আগে পর্যন্ত আমি জানতাম আমি আমার গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। আমি তো মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করেছি। তাদের লাশ ফেলার মাধ্যমে আমাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে কেন! এ অবস্থায় আমি বললাম, আমার থাকার দরকার নেই। আমি চলে যাব। আমি যাব কোথায়? আমি বললাম যে, আমি যাব টুঙ্গিপাড়া গ্রামের বাড়িতে। যখন আমি এয়ারক্রাফটে তখন আমি জানলাম আমি এখানে (ভারত) চলে এসেছি।

 

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করলো, তারেককে (প্রধানমন্ত্রী) ফিরিয়ে আনলো-সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করেছেন। আমি তো বাধা দিইনি। আমি দিল্লি থেকে কথা বললেই দোষ?

তিনি বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দর কষাকষি আসলে নিজের দেশকেই খাটো করা।

শেখ হাসিনার মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। কোনো সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে ফেরা হচ্ছে না হাসিনার

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর