কানাডার পর দুবাইতেও ঢুকতে না পেরে শেষমেশ দেশেই ফিরে আসছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো ডা. মো. মুরাদ হাসান।
দুবাই বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে করে জামালপুর-৪ আসনের আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
আজ রোববার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে ৫৮৬ ফ্লাইটটি ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
এর আগে আজ রোববার দুবাই থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ( ইকে-৫৮২) সকাল ৮টা ১০ মিনিটের ফ্লাইটে মুরাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু টিকেট কাটার পরও ওই ফ্লাইটে করে মুরাদ হাসান আসেননি।
এর আগে কানাডার টরন্টো বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় দুবাইয়ে এসে পৌঁছান ডা. মুরাদ।
জানা গেছে, আগমনী ভিসা (ভিসা অন-অ্যারাইভাল) অথবা পর্যটন ভিসা না থাকায় মুরাদকে দুবাইয়ে ঢুকতে দেয়নি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, কানাডায় ঢুকতে চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর মুরাদ হাসান দুবাইয়ের ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ঢাকায় ফেরার টিকেট কাটার পরও দুবাই বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় বসে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ভিসার ব্যবস্থা করতে পারেননি। এরপর মুরাদ দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
বৃহস্পতিবার রাত ১টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সে কানাডার উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন মুরাদ।
মুরাদ হাসানের সঙ্গে তার পরিবারের কোনো সদস্য ছিলেন না। তিনি একাই কানাডার উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেন।
মুরাদ প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই যান। সেখান থেকে আমিরাতের একটি ফ্লাইটে কানাডায় যান।
স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে তিনি টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ।
জানা যায়, মুরাদ টরন্টো পিয়ারসন বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে কানাডা ইমিগ্রেশন এবং বর্ডার সার্ভিস এজেন্সির কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান।
নারীদের নিয়ে বিতর্কিত ও অশোভন মন্তব্য সম্পর্কে তাকে ইমিগ্রেশনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই সঙ্গে তার কাছে বিভিন্ন ভিডিও, ছবি ও সংবাদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
মুরাদ কী কারণে কানাডায় এসেছেন, সে বিষয়েও জানতে চান ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। এ সময় যুক্তিযুক্ত কারণ দেখাতে ব্যর্থ হন তিনি।
সরকারি ও ব্যক্তিগত পাসপোর্ট জটিলতার বিষয়েও কানাডা ইমিগ্রেশন জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় তাকে পিয়ারসন বিমানবন্দর থেকে পুনরায় দুবাইয়ে ফেরত পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: ধানমন্ডিতে বাসা রেখে হোটেল সোনারগাঁওয়ে কী করতেন মুরাদ
গত ৪ ডিসেম্বর ইউটিউবে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যাকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী মো. মুরাদ।
এরপর গত রোববার রাতে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির ফোনালাপ ফাঁস হয়।
ওই ফোনালাপে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মাহিকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তুলে আনারও হুমকি দেন।
বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে নিন্দা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকার।
এসবের জেরে মুরাদ হাসানকে মঙ্গলবারের মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি পদত্যাগ করেছেন।
তবে পদত্যাগপত্রে মুরাদ হাসান ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়েছেন।
এছাড়া গেল মঙ্গলবার মুরাদ হাসানকে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ছাত্রদল নেতা থেকে আওয়ামী লীগের প্রতিমন্ত্রী, ‘দুঃসময়ে পল্টি দেন ডা. মুরাদ’
