ফুটবল বিশ্বের অগণিত ভক্তের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ সময় মরাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের কটন বোল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত হারে পর্তুগালের স্বপ্নের যাত্রা এখানেই থেমে যায়। একই সঙ্গে ভেঙে যায় সিআরসেভেনের শেষ বিশ্বকাপের স্বপ্ন।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মিকেল মেরিনোর গোলটি যখন পর্তুগালের জালে জড়িয়েছিল, তখন ডালাসের স্টেডিয়ামে যেন নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই বাঁধভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়েন রোনালদো। মাঠে সতীর্থরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও রোনালদোর চোখের জল যেন থামছিল না। তার এই কান্না ছুঁয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকসহ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়কে। রোনালদো তো কাঁদলেনই, কিন্তু তার এই অশ্রুসিক্ত বিদায় কি কাঁদাল না পুরো ফুটবল বিশ্বকে?
২০০৬ সালে যে মহাকাব্যিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল, তা আজ ডালাসের ঘাসে অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ হলো। পুরো গ্যালারিতে তখন ছিল পিনপতন নীরবতা। রোনালদোর দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ দেখে আবেগপ্রবণ দর্শকরা দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানান করতালিতে। স্পেন পৌঁছে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে, আর ফুটবল বিশ্ব আজ সাক্ষী হয়ে রইলো এক কিংবদন্তির শেষ বিশ্বকাপ বিদায়ের।
২০০৬ সালে শুরু হয়েছিল রোনালদোর বিশ্বকাপ অভিযান। এরপর একে একে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ পেরিয়ে এবার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নেমেছিলেন তিনি। দীর্ঘ দুই দশকের এই যাত্রায় রোনালদো শুধু পর্তুগালের অধিনায়কই ছিলেন না। হয়ে উঠেছিলেন দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতীক।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্যক্তিগত রেকর্ডের কমতি নেই সিআরসেভেনের। পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম পুরুষ ফুটবলার তিনি। তবে এত অর্জনের পরও অধরা থেকে গেছে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি। ইউরো ও উয়েফা নেশন্স লিগ জিতলেও ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে শিরোপার স্বাদ পাননি এই মহাতারকা।
স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরু থেকেই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দুই দলের আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা লড়াইয়ে গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। আর সেই গোলই শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি টেনে দেয়।
বয়স ৪১ ছুঁলেও সিআরসেভেনের মধ্যে কমেনি জয়ের ক্ষুধা। মাঠে তার উপস্থিতি, নেতৃত্ব এবং লড়াইয়ের মানসিকতা এখনো সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করে। তবে শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারলেন না তিনি।
আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা এখনো দেননি সিআরসেভেন। তবে আগেই জানিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ হয়ে গেল তার দীর্ঘ দুই দশকের পথচলার এক স্মরণীয় অধ্যায়। গোল, রেকর্ড আর অসংখ্য অর্জনে ভরা ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে সিআরসেভেনের বিশ্বকাপ অধ্যায় এখন শেষের পথে।
আরও পড়ুন: ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে হালান্ডের জোড়া গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে
