, | |

মূলপাতা জাতীয়

যতোদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততোদিন সবার বুকে থাকবেন হাদি: প্রধান উপদেষ্টা


জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজায় বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৩:০১ : অপরাহ্ণ

যতোদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততোদিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি সবার বুকে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ শনিবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জানাজা শুরুর পূর্বে প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে বলেন, ‘প্রিয় হাদি, তোমাকে বিদায় দিতে আসিনি। তুমি আমাদের বুকের মধ্যে আছো। বাংলাদেশ যত দিন ঠিকে থাকবে, তুমি আমাদের মধ্যে থাকবে। তোমাকে কেউ ভুলে যাবে না।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘প্রিয় হাদি, আমরা তোমার কাছে আমরা ওয়াদা করতে এসেছি। তুমি যা বলে গেছো সেটা যেন আমরা পূরণ করতে পারি, সেই ওয়াদা করার জন্য আমরা একত্র হয়েছি। সেই ওয়াদা শুধু আমরা নয়, পুরুষানুক্রমে বাংলাদেশের সব মানুষ পূরণ করবে। সেই ওয়াদা করার জন্যই আমরা তোমার কাছে আজকে এসেছি।’

হাদির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সবাই মিলে যে যেখানেই আছি, তোমার যে মানব প্রেম, তোমার যে ভঙ্গি, মানুষের সঙ্গে উঠাবসা, তোমার যে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সবাই প্রশংসা করছে। সেটা আমরা প্রাণে গ্রহণ করছি। যেটা যেন আমাদের মনে সবসময় জাগ্রত থাকে। আমরা সেটা অনুসরণ করতে পারি।’

জানাজায় অংশ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

হাদির জানাজা ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-জনতা এবং সাধারণ মানুষ দলে দলে সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। ফার্মগেট, আসাদ গেট হয়ে দলে দলে মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ঢুকেন। কেউ হাতে, কেউ মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে জানাজায় অংশ নেন। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তারা নানা স্লোগান দেন। ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।

 

দুপুর ১২টা বাজার আগেই পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জানাজা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন হাদির বড় ভাই মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক।

উল্লেখ্য, আততায়ীর বুলেটে বিদ্ধ হয়ে টানা সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারির অকুতোভয় যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদি। গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদিকে গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরের পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথ, ক্যাম্পাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন ওসমান হাদি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অভ্যুত্থানের ইতিহাস ধরে রাখতে তিনি গড়ে তোলেন ইনকিলাব মঞ্চ। রাজনৈতিক এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে হাদি দেশের মানুষের কাছে একজন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তার কর্মকাণ্ড দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ওসমান হাদি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা শহরের খাসমহল এলাকার মৃত মাওলানা সৈয়দ আব্দুল হাদির ছোট ছেলে। ঝালকাঠির এন এস কামিল মাদ্রাসা থেকে তিনি আলিম পাশ করেছিলেন। এরপর তিনি ঢাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।

আরও পড়ুন: লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর