রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময় : ২৬ জুলাই ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের দুই দিন পর বঙ্গভবন ছেড়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ রোববার বেলা আড়াইটার দিকে সাহাবুদ্দিনের গাড়িবহর বঙ্গভবন ত্যাগ করে। রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত নিজ বাসভবন গ্রিন ভিলার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
এর আগে, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেও তিনি দায়িত্ব পালন করলেন তিন বছর তিন মাস।
শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ (Autonomic Neuropathy) নামক স্নায়ুরোগে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করেন। এই শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না এবং তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন বলে তিনি জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অব্যাহতি নেন।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। মেয়াদের আরও প্রায় এক বছর নয় মাস বাকি থাকতেই তিনি পদত্যাগ করেন।
আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠভাজন হিসেবে পরিচিত সাবেক জেলা ও দায়রা জজ সাহাবুদ্দিন ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তখন বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে বিএনপি বরাবরই রাষ্ট্রপতিকে সরানোর পক্ষে ছিল না। ফলে শেষ পর্যন্ত টিকে যান মো. সাহাবুদ্দিন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার ঘটন করলে নতুন সরকারকে শপথ পড়ান সাহাবুদ্দিন। তখন থেকেই কবে তাকে সরানোর হবে সেই প্রহর গোনা হচ্ছিল। অবশেষে সরকারের পাঁচ মাসের মাথায় তিনি বঙ্গভবন ছাড়লেন।
আরও পড়ুন: যে শর্তে বিএনপির সঙ্গে ‘সমঝোতা’ হয়েছে সাহাবুদ্দিনের
