অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের নতুন সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি আর আবরার (চৌধুরী রফিকুল আবরার)।
আজ বুধবার বেলা ১১টা ৬ মিনিটে বঙ্গভবনে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
উপদেষ্টা পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
নবনিযুক্ত উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এতোদিন শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
শরণার্থী ও শ্রম অভিবাসন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সি আর আবরারের জন্ম ১৯৫২ সালের ১৭ আগস্ট ফরিদপুরে। তার পিতা আবদুস সাত্তার চৌধুরী ও মা সোফিয়া সুলতানা। মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেন তিনি। এরপর যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে এমএ এবং অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ১৯৭৯ সাল থেকে টানা চার দশক ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করছেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের খ্যাতিমান এই অধ্যাপক শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) নির্বাহী পরিচালক। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তিনি শ্রম নিয়োগ শিল্প, সামাজিক সুরক্ষা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অধিকার বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টাসহ এই সরকারের ২২ জন উপদেষ্টা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সামলাচ্ছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন ড. আসিফ নজরুল, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন তৌহিদ হোসেন, স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন লে. জে. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন আদিলুর রহমান খান, খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন আলী ইমাম মজুমদার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, বন ও পরিবেশ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন আসিফ মাহমুদ।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন ফারুক-ই-আজম, নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন নুরজাহান বেগম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন ফরিদা আখতার, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আছেন শারমীন এস মুরশিদ।
এ ছাড়া ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সুপ্রদীপ চাকমা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে শেখ বশির উদ্দিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে মাহফুজ আলম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অধ্যাপক সি আর আবরার দায়িত্ব পালন করছেন।
