, | |

মূলপাতা খেলা

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ জয় বাংলাদেশের


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২০ মে, ২০২৬ ১১:৩১ : পূর্বাহ্ণ

লং অনে তানজিদ হাসান তামিম ক্যাচ ধরতেই গল্প শেষ পাকিস্তানের। তাইজুল ইসলামও সফরকারীদের ইনিংসে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার পর মুষ্টিবদ্ধ উদ্‌যাপন করলেন। ধারাভাষ্যকক্ষে আতহার আলী খান বলে উঠলেন, ‘এবার আরও এক বাংলাওয়াশ।’ ডাগআউট থেকে ভেসে আসছে করতালি। শান্ত-তাইজুল-মাহমুদুল হাসান জয়সহ পুরো বাংলাদেশ করলো বাঁধভাঙা উদযাপন। আর এই জয়ে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ নিজেদের করে নিলো বাংলাদেশ। টেস্টে জিতে পাকিস্তানকে ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তিও গড়লো টাইগাররা।

আজ বুধবার সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫৮ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান।

এর আগে ঢাকা টেস্টেও ১০৪ রানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে সেবার পাকিস্তানের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে এসেছিল টাইগাররা। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটি একটি বিরল রেকর্ড। প্রথমবার কোনো দলকে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ।

আজ বুধবার (২০ মে) সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫৮ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান।

এর আগে ঢাকা টেস্টেও ১০৪ রানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতে পাকিস্তানকে প্রথমবার ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ।

দুই দলের শেষ দেখায়ও অবশ্য ফলাফল একই ছিল। ২০২৪ সালে সেবার পাকিস্তানের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে এসেছিল টাইগাররা। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটি একটি বিরল রেকর্ড। প্রথমবার কোনো দলকে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ। এটাই প্রথম টেস্টে কোনো দলের বিপক্ষে টানা চার ম্যাচে জয় পেল বাংলাদেশ।

গতকালই জয়ের উপলক্ষ্য তৈরি করে রেখেছিল বাংলাদেশ। অপেক্ষা ছিল আজ কতদ্রুত সেটি করতে স্বাগতিকরা। শুরুর দিকে অবশ্য কিছুটা হতাশই হতে হচ্ছিল। সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করছিল বাংলাদেশ। তবে ঘুরে দাঁড়াতে খুব বেশি সময় লাগেনি। দিনের প্রথম সেশনেই জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

৯৩তম ওভারে নাহিদ রানার বাউন্সারে পরাস্ত হয়ে ক্যাচ তুলেছিলেন সাজিদ খান। কিন্তু সেটি নিতে পারেননি কেউ। উইকেটকিপার লিটন দাস ও শর্ট স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো তাইজুল ইসলামের মাঝে বলটা বেশ কিছুক্ষণ শূন্যে ভেসে ছিল। লিটন একটু এগিয়ে গেলেও তাইজুল নড়েননি। যে কারণে তাইজুলের ওপর কিছুটা রাগই করেছিলেন লিটন।

 

তিন ওভার পরে এসে সেই তাইজুলই বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরান। তাইজুলের টার্ন করে বেড়িয়ে যাওয়া বল সাজিদের ব্যাট ছুঁয়ে চলে যায় প্রথম স্লিপে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে। সেটি তালুবন্দি করতে ভুল করেননি শান্ত। ৩৬ বলে ২৮ রান করে ফেরেন সাজিদ। তাকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৭তম ফাইফার তুলে নেন তাইজুল।

পরের ওভারে এসে পথের কাঁটা দূর করেন শরিফুল ইসলাম। সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে চলে যাওয়া পাকিস্তানের আশার বাতি হয়ে থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান তিনি। ১৬৬ বলে ৯৪ রান করে রিজওয়ান ফিরলে পাকিস্তানের সব আশা নিভে যায়।

পরের ওভারে পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন তাইজুল। শেষ ব্যাটার হিসেবে খুররাম শেহজাদ ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিমের হাতে। ৬ বল খেলে তিনি কোনো রান করতে পারেননি। বাংলাদেশ উল্লাসে মেতে ওঠে ঐতিহাসিক জয়ে।

এর আগে ৩ উইকেট হাতে রেখে ৩১৬ রান নিয়ে শেষ দিন শুরু করেছিল পাকিস্তান। ১৩৪ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন রিজওয়ান আর সাজিদ খান ৯ বলে ৮ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৭৭ ওভারে ২৭৮/১০
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস : ৫৭.৪ ওভারে ২৩২/১০
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ১০২.২ ওভারে ৩৯০/১০
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস : ৯৭.২ ওভারে ৩৫৮/১০ (আজান ২১, ফজল ৬, মাসুদ ৭১, বাবর ৪৭, শাকিল ৬, সালমান ৭১, হাসান ০, সাজিদ ২৮, রিজওয়ান ৯৪, খুররম ০, আব্বাস ০*; তাসকিন ১২-১-৬২-০, শরিফুল ১২-৪-২৯-১, নাহিদ ১৮-৩-৭১-২, মিরাজ ২০-১-৬২-১, তাইজুল ৩৪.২-৪-১২০-৬, মুমিনুল ১-০-৩-০)

ফলাফল: বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়ী।
সিরিজ: দুই ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে জয়ী।

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর