, | |

মূলপাতা রাজনীতির মুখ

সাঈদ আল নোমানের যে গুণ দেখে বিস্মিত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আপেল



রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময় : ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ

মহসিন কবির আপেল। বয়স ৪০ বছর। চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৮ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক। এর আগে তিনি মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রায় ১৭ বছরের শাসনামলে চট্টগ্রাম নগরীতে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সবসময় সক্রিয় ছিলেন সাবেক এই ছাত্রনেতা। তিনি চট্টগ্রাম-১০ আসনের এমপি সাঈদ আল নোমানের অনুসারী। তৃণমূল থেকে উঠে আসা আলোচিত ছাত্রনেতা মহসিন কবির আপেলের রাজনৈতিক জীবনের গল্প জানতে তার মুখোমুখি হয় রাজনীতি সংবাদ। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে রাজনীতি সংবাদের কার্যালয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন রাজনীতি সংবাদের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন সায়েম।

রাজনীতি সংবাদ: আপনি নগর ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। ছাত্রদল থেকে এখন স্বেচ্ছাসেবক দলে। এই সংগঠনের রাজনীতি কেমন উপভোগ করছেন?

মহসিন কবির আপেল: স্বেচ্ছাসেবক দলের মূল কাজ হলো স্বেচ্ছাসেবা। কিন্তু বাস্তবে আমাদের এখন স্বেচ্ছাসেবামূলক কোনো কার্যক্রম নেই। ১৯৮০ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরে স্বেচ্ছাসেবক দলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা চিন্তা করে তিনি এই সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। এখন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বেচ্ছাসেবক দলকে রাষ্ট্র বিনির্মাণের কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের ফায়ার সার্ভিসের ট্রেনিং দেওয়া হবে। এরকম কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবে।

প্রশ্ন: আপনি নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির সদস্য সচিব প্রত্যাশী ছিলেন। কেন এই পদ পেলেন না?

উত্তর: আমি যেহেতু ছাত্রদল থেকে এসেছি, আগে স্বেচ্ছাসেবক দল করিনি তাই হয়তো আমাকে এই পদ দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমি যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পেয়ে সন্তুষ্ট না। কেননা দলের আন্দোলন-সংগ্রামে আমার চেয়ে কম শ্রম দেওয়া নেতাদের কমিটিতে ভালো মূল্যায়ন হয়েছে।

প্রশ্ন: তারমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৭১ সদস্যের যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে তাতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি?

উত্তর: ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখেনি এমন অনেকে তদবির করে পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। তখন ফেসবুকে অনেকে লিখেছিলো, কমিটি নিয়ে বাণিজ্য হয়েছে। তবে বেলায়েত হেসেন বুলু ও জমির উদ্দিন নাহিদের সঙ্গে সাংগঠনিক কাজকর্মে এরকম কিছু আমার চোখে ধরা পড়েনি।

প্রশ্ন: বেলায়েত হেসেন বুলু ও জমির উদ্দিন নাহিদ গত এক বছর ধরে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তাদের নেতৃত্ব কেমন দেখছেন?

উত্তর: তারা দুজনই তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতা। গত এক বছরে তাদের সফলতা যেমন আছে, তেমনি ব্যর্থতাও আছে। তারা যে অল্প সময়ের মধ্যে থানা-ওয়ার্ড কমিটি গঠন করেছেন এটা তাদের সবচেয়ে বড় সফলতা। আর ব্যর্থতা হলো, এসব থানা-ওয়ার্ড কমিটিতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এমনকি মহানগর কমিটিতেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত লোকদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এটা তারা জেনেশুনেই করেছেন। তাদের আরেকটা ব্যর্থতা হলো, কমিটি গঠনের পর তারা কেবল কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির বাইরে তারা কিছুই করেননি।

প্রশ্ন: আপনি বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের অনুসারী ছিলেন। আপনার দৃষ্টিতে তিনি কেমন নেতা ছিলেন?

উত্তর: কর্মীদের প্রতি নোমান ভাইয়ের যে ভালোবাসা ও স্নেহ ছিল তা চট্টগ্রামের আর কোনো নেতার মধ্যে এখনো দেখিনি। একজন কর্মীর ব্যক্তিগত সমস্যা, ব্যবসায়িক সমস্যা, পারিবারিক সমস্যা, সামাজিক সমস্যা, রাষ্ট্রীয় সমস্যা-সবখানেই ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান।

প্রশ্ন: আপনি এখন তার ছেলে সাঈদ আল নোমানের সঙ্গে রাজনীতি করছেন। তার রাজনীতি কেমন দেখছেন?

উত্তর: রাজনীতিতে সাঈদ আল নোমানের পদার্পন মাত্র শুরু হলো। তবে এই অল্প সময়ে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় গুণ যেটা দেখেছি তা হলো, তিনি কর্মীর চেয়ে জনগণকে বেশি ভালোবাসেন। তিনি জনগণের মাঝে থাকতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন।

প্রশ্ন: তাহলে কি সাঈদ আল নোমান কর্মীবান্ধব নেতা নন?

উত্তর: আবদুল্লাহ আল নোমানের রাজনীতি শুরু হয়েছিল কর্মীদের নিয়ে। আর সাঈদ আল নোমান রাজনীতি শুরু করেছেন জনগণ দিয়ে। আসলে কর্মীদের জন্য তিনি সময় কাভার করতে পারছেন না। আরও কিছু সময় পেলে আবদুল্লাহ আল নোমানের মতো তিনিও কর্মীবান্ধব নেতা হয়ে উঠবেন।

প্রশ্ন: এমপি হওয়ার আগে আর এমপি হওয়ার পরে সাঈদ আল নোমানের মধ্যে কী তফাৎ দেখছেন?

উত্তর: এমপি হওয়ার আগে আর এমপি হওয়ার পরে সাঈদ আল নোমানের মধ্যে বিস্তর তফাৎ দেখছি। এমপি হওয়ার পর সাঈদ আল নোমানকে দেখে আমরা হতবাক। এমপি হওয়ার আগে উনাকে যখন আমরা একজন অসুস্থ কর্মীকে দেখতে যেতে বলতাম ঘণ্টা দুয়েক বিলম্ব করতেন। আর এমপি হওয়ার পর উনাকে যখন বলি, অমুক কর্মী অসুস্থ, সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ছুটে যান।

প্রশ্ন: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আপনি আন্দোলন-সংগ্রামে সবসময় সক্রিয় ছিলেন। এ সময় আপনার বিরুদ্ধে কয়টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে আর কারাবরণ করেছেন কতবার?

‘এমপি হওয়ার পর সাঈদ আল নোমানকে দেখে আমরা হতবাক’
গ্রেপ্তারের পর আদালত প্রাঙ্গণে মহসিন কবির আপেল। পুরোনো ছবি

উত্তর: আমার বিরুদ্ধে ৩২টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। আর কারাবরণ করেছি চারবার। এরমধ্যে হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে তিনবার কারাবরণ করেছি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়েছিলাম। ১৭ জুলাই আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই দিন আমার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা দেওয়া হয়। তবে আমি প্রথম জেল খেটেছি ১৯৯৯ সালে। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর, নবম শ্রেণিতে পড়ি। বিএনপির হরতালের সময় মুরাদপুরে নগর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আর ইউ চৌধুরী শাহীনসহ আমরা ৫-৬ জন পিকেটিং করছিলাম। এ সময় পুলিশ এসে আমাকে ও আর ইউ চৌধুরী শাহীনকে আটক করে। এরপর আমাদের বিরুদ্ধে একটা মামলা দায়ের করা হয়। তবে একদিন পর জেল থেকে আমি জামিনে মুক্তি পাই।

রাজনীতি সংবাদ: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

মহসিন কবির আপেল: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন:

সাড়ে ৪ মাসের মাথায় ‘চমক’ দেখালেন বুলু-জমির

চট্টগ্রামে পল্টি নিয়ে খসরুর দলে ভিড়লেন নোমানের তিন শিষ্য

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর