রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময় : ৬ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
আবদুল মান্নান। বয়স ৬১ বছর। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি একজন ব্যবসায়ী নেতা। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তিনি। নগর বিএনপির কমিটি থেকে ছিটকে পড়া এই নেতা আগামী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২০ নম্বর দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নগর বিএনপির রাজনীতি, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন রাজনীতি সংবাদের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন সায়েম।
রাজনীতি সংবাদ: আপনি ২০২৪ সালে গঠিত নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান পেলেন না কেন?
আবদুল মান্নান: আমি ২০০৯ সালে গঠিত আমীর খসরু-ডা. শাহাদাতের কমিটিতে কার্যনির্বাহী সদস্য, এরপর ২০১৬ সালে গঠিত শাহাদাত-বক্করের কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক এবং ২০২০ সালে গঠিত শাহাদাত-বক্করের আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে এতো ত্যাগ স্বীকার করার পরও ২০২৪ সালে গঠিত নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে কী কারণে আমাকে স্থান দেওয়া হলো না তা আমি জানি না। আমার অপরাধ কী?
প্রশ্ন: নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ রাজনীতি সংবাদের ‘ডায়ালগ’ টকশো অনুষ্ঠানে বলেছেন, আপনি দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পেয়ার মোহাম্মদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে কোতোয়ালী থানা থেকে ছাড়িয়ে আনতে গিয়েছিলেন। এ কারণে আপনাকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের সেই নেতাকে ছাড়িয়ে আনতে আপনি কি থানায় তদবির করতে গিয়েছিলেন?
উত্তর: এরশাদ উল্লাহ এটা মিথ্যা কথা বলেছেন। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ দিলাম, তিনি এটা প্রমাণ করতে পারবেন না। আমি পেয়ার মোহাম্মদকে ছাড়িয়ে আনতে থানায় যাইনি। পেয়ার মোহাম্মদ আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, পিএইচপির সুফি মিজানুর রহমানের সঙ্গে আমি পাকিস্তান যাচ্ছি। কিন্তু এয়ারপোর্টে আমাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তখন আমি উনাকে বলেছিলাম, আমার এখানে করার কিছু নেই। উনাকে তো কোতোয়ালী থানা গ্রেপ্তার করেনি। তাহলে আমি কেন উনাকে ছাড়িয়ে আনতে থানায় যাবো? আসলে এটা ছিল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমি এরশাদ উল্লার কাছে এ ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে কোনো জবাব দিতে পারেননি।
প্রশ্ন: এরশাদ উল্লাহ-নাজিমুর রহমানের নেতৃত্বে কেমন চলছে নগর বিএনপি?
উত্তর: নগর বিএনপি এখন কীভাবে চলছে তা তো বুঝতেছি না। সাংগঠনিক কোনো কার্যক্রম নেই। সংগঠনের মধ্যে কোনো চেইন অব কমান্ড নেই। এরশাদ উল্লাহ-নাজিমুর রহমান কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির বাইরে কোনো কিছু করছেন না। কেন্দ্র থেকে যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় তারা কেবল সেটাই পালন করছেন।
প্রশ্ন: তারা কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির বাইরে কী করবেন?
উত্তর: থানা-ওয়ার্ডগুলোতে দলের কোনো কার্যক্রম নেই। থানা-ওয়ার্ডের নেতারা চেইন অব কমান্ড মানছেন না। যেসব নেতাকর্মী দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
প্রশ্ন: আপনাদের দলের মধ্যে প্রচার আছে, শাহাদাত-বক্কর থানা-ওয়ার্ড কমিটি করতে না পারায় তাদেরকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এটা কতটুকু সত্য?
উত্তর: এটা দলের হাইকমান্ডের বিষয়। তবে শাহাদাত-বক্কর দলকে কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তখন পুলিশের হামলা-মামলা ও নির্যাতনের কারণে আমরা রাজপথে দাঁড়াতেই পারিনি। কমিটি দেওয়ার জন্য নেতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপরও শাহাদাত-বক্কর ২০১৬ সালে অনেক ওয়ার্ডে কাউন্সিল করেছেন। তাদের আন্তরিকতার অভাব ছিল না। তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তারা দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।
প্রশ্ন: শোনা যাচ্ছে, আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আপনি দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হবেন। আপনি তো এর আগে কখনো কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী হননি। এবার কেন নির্বাচন করবেন?
উত্তর: ২০১০ সালে আবদুল্লাহ আল নোমান (বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান) আমাকে কাউন্সিলর নির্বাচন করতে বলেছিলেন। তখন আমি টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। তখন আমি উনাকে বলেছিলাম, আমার এখনো নির্বাচন করার বয়স হয়নি। এর মধ্যে ১৬ বছর পার হয়েছে। এখন আমি পরিপক্ক। তাই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর আমি এলাকার মানুষের সেবা করার জন্য এবার নির্বাচন করতে চাই।
প্রশ্ন: আপনি এখন টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। এর আগে চারবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। বারবার নির্বাচিত হওয়ার রহস্য কী?
উত্তর: গত ২৬ বছর ধরে আমি টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন করে আসছি। ২০০০ সালে প্রথম নির্বাচনে সহসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। এরপর টানা চারবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। এরপর ২০২২ সালে সভাপতি পদে নির্বাচন করেছিলাম। কিন্তু তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে আমাকে হারিয়ে দেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে আমি সভাপতি নির্বাচিত হই। বারবার নির্বাচিত হওয়ার কারণ হলো আমার সততা ও সাহসিকতা। আমি ব্যবসায়ীদের যে কোনো সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যাই। টেরীবাজারের বেশিরভাগ ব্যবসায়ী হলো সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার। কিন্তু আমার বাড়ি হলো দেওয়ান বাজারে। এরপরও ব্যবসায়ীরা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন।
প্রশ্ন: আর কতবার টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন করবেন?
উত্তর: যদি আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হই, তাহলে আর টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন করবো না। তখন কাউন্সিলর হিসেবে টেরীবাজারের ব্যবসায়ীদের কল্যাণে কাজ করবো।
প্রশ্ন: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আপনার বিরুদ্ধে কয়টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল?
উত্তর: ২৫টি মামলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই আমার বিরুদ্ধে একসাথে ৬টি মামলা দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: কখনো জেলে যাননি?
উত্তর: একবার জেলে গিয়েছিলাম। ১৯৯৬ সালে কাজীর দেউড়ি আউটার স্টেডিয়ামে খালেদা জিয়ার সমাবেশ ছিল। সেই সমাবেশে যোগ দিতে রহমতগঞ্জ থেকে মিছিল নিয়ে আমরা আউটার স্টেডিয়ামে যাচ্ছিলাম। তখন খোরশেদ আলমের (বাঁশখালী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান) নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের মিছিলে হামলা চালায়। এ ঘটনায় থানায় উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর বাড়ি থেকে পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে। ২০ দিন জেলে ছিলাম।
রাজনীতি সংবাদ: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
আবদুল মান্নান: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
আরও পড়ুন: দুবার গোলাগুলির মাঝে পড়ে প্রাণে বেঁচে যান শাহেদ
