, | |

মূলপাতা রাজনীতির মুখ

‘নওফেল আমাকে ক্রসফায়ারে দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন’



রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময় : ১৭ মে ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ

এমদাদুল হক বাদশা। বয়স ৪৮ বছর। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বাড়ি নগরীর পশ্চিম বাকলিয়ায়। সাবেক এই যুবদল নেতা নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন। এই যুবদল নেতা জানিয়েছেন, তাকে ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সাবেক এমপি মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ক্রসফায়ারে দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ১২ জুলাই তাকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু ৫ মাস পর ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে নেয় কেন্দ্র। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আসন্ন নতুন কমিটির সদস্য সচিব বা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী তিনি। এসব বিষয় নিয়ে এমদাদুল হক বাদশার সঙ্গে কথা বলেছেন রাজনীতি সংবাদের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন সায়েম।

রাজনীতি সংবাদ: আপনাকে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছিল। যদিও পরে সেই বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। তারমানে আপনার বিরুদ্ধে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ সত্য ছিল না?

এমদাদুল হক বাদশা: আমি কার জায়গা দখল করেছি বা কার কাছে চাঁদা চেয়েছি? আমার বিরুদ্ধে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ যদি সত্য হতো তাহলে কেন্দ্র আমার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করতো না। আসলে এটা ছিল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমি কোনো অন্যায়, অপরাধ করিনি। আমাকে বহিষ্কার করার পর বিষয়টা চ্যালেঞ্জ করে আমি কেন্দ্রের কাছে আমি একটা লিখিত চিঠি দিয়েছিলাম। এরপর তারা ঘটনাটা তদন্ত করে। কিন্তু যাচাই-বাছাই করে আমার বিরুদ্ধে দখল-চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ পায়নি। এরপর কেন্দ্র আমার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়।

প্রশ্ন: কিন্তু তখন যুবদলের কেন্দ্র থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগে আপনাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছিল। তারা কেন আপনাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছিল?

উত্তর: তখন একটা জায়গার বিষয় নিয়ে এক ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। বিষয়টা তদন্ত করার জন্য কেন্দ্র থেকে এক যুবদল নেতাকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। আমি একটা জায়গা ক্রয় করেছি। এই জায়গা নিয়ে যদি কোনো ভুল-ত্রুটি থাকে সেটা আদালতে মীমাংসা হবে। কিন্তু কেন্দ্র থেকে তদন্তে আসা যুবদল নেতা আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ পেয়েছে সে বিষয়ে আমাকে কিছু জানায়নি। আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়নি। পরে আমি কেন্দ্রের কাছে লিখিতভাবে আমার অবস্থান স্পষ্ট করি।

প্রশ্ন: ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি কেন ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছিল??

উত্তর: ওই দিন নগরীর চান্দগাঁওয়ে টার্ফ মাঠ উদ্বোধন করা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেদিন সংঘর্ষে এক যুবক ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন নগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন। এ ঘটনায় সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার কারণে কেন্দ্র চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি ভেঙ্গে দেয়। এটা অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

প্রশ্ন: মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও মোহাম্মদ শাহেদ চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলকে ৬ বছর নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের নেতৃত্ব কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

উত্তর: তারা সফলভাবে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীপ্তি-শাহেদ দায়িত্ব নেওয়ার ৪ মাসের মাথায় মহানগরের ২৩১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেন। এরপর নগরীর ১৫ থানা ও ১৭টি ওয়ার্ডে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। যেটা অতীতে আর কেউ করতে পারেনি। মহানগর এবং থানা-ওয়ার্ডের যে কমিটি হয়েছিল তা নিয়ে কোনো প্রতিবাদ হয়নি, কোনো প্রতিক্রিয়াও হয়নি। সবাই মেনে নিয়েছিলেন। কারণ সব নেতাদের সমন্বয় করে কমিটি করা হয়েছিল। এটা আমাদের অনেক বড় একটা অর্জন। দীপ্তি-শাহেদ কমিটি করার জন্য, সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

প্রশ্ন: ১ বছর ৮ মাস ধরে অভিভাবকহীন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল। কেন কমিটি হচ্ছে না বলে মনে করছেন?

উত্তর: কেন কমিটি হচ্ছে না এর কারণ আমি জানি না। অথচ ঢাকা মহানগরের পরে চট্টগ্রাম মহানগর হলো যুবদলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী ইউনিট। কিন্তু ২০ মাস ধরে অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে আছে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল। এতে সংগঠন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুত সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরের কমিটি গঠন করা উচিত।

প্রশ্ন: আপনি নগর যুবদলের আসন্ন নতুন কমিটির সদস্য সচিব বা সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী। প্রত্যাশা পূরণ হবে কি?

উত্তর: প্রত্যেক নেতার আশা আকাঙ্খা থাকেই। আমি আগে সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। তাই এখন সদস্য সচিব বা সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী। যদি আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহলে অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলকে আরও সুসংগঠিত করবো।

প্রশ্ন: সদস্য সচিব পদ প্রত্যাশী আরও দুজন নেতা আলোচনায় আছেন। এরা হলেন-নগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি এ কে এম ফজলুল হক সুমন এবং নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান। তাদের ব্যাপারে কী বলবেন?

উত্তর: ফজলুল হক সুমন দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের রাজনীতি করে আসছেন। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সবসময় সরব ছিলেন। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তবে রাশেদ খান যুবদলের রাজনীতি করেননি। অবশ্য পদ প্রত্যাশী যে কেউ হতেই পারে। দল যাকে যোগ্য ও উপযুক্ত মনে করবে তাকে দায়িত্ব দেবে।

প্রশ্ন: মোশাররফ হোসেন দীপ্তি নগর যুবদলের নতুন কমিটির সভাপতি পদ প্রত্যাশী হলেও কেন্দ্র তাকে কেন সরে যেতে বললো?

উত্তর: গত সংসদ নির্বাচনের আগে যুবদলের কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম মহানগরসহ সারাদেশের ইউনিট কমিটির ‘সুপার ফাইভ’ নেতাদের ডেকেছিল। ওই সভায় ইউনিট যুবদলের সভাপতি পদে যারা আছেন তাদের কাউকে নতুন কমিটিতে রাখা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। দীপ্তি ভাই এখন নগর বিএনপির নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য কাজ করছেন।

প্রশ্ন: মোহাম্মদ শাহেদ, ইকবাল হোসেন ও মোশাররফ হোসেন নগর যুবদলের নতুন কমিটির সভাপতি পদ প্রত্যাশী। এদের মধ্যে আপনি কাকে এগিয়ে রাখবেন?

উত্তর: নিঃসন্দেহে শাহেদ ভাই এগিয়ে। তিনি আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আর অতীতে যারা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তারা পরে সভাপতি হয়েছেন। সেক্ষেত্রে এখন কেন তার ব্যত্যয় হবে? শাহেদ ভাই দীর্ঘদিন ধরে যুবদল করছেন। তিনি নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে বিচরণ করেছেন। তিনি একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ সংগঠক। তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো উচিত।

প্রশ্ন: বিএনপি নেতাদের সুপারিশ ছাড়া কি যুবদলের নেতৃত্বে আসা সম্ভব?

উত্তর: এই ট্রেডিশন আগে ছিল। এখন দল আর এই জায়গায় নেই। কোনো বিএনপি নেতা যদি বলে আমার মনোনীত ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট বা সেক্রেটারি বানাতে হবে-সেটা এখন আর হবে না। বিএনপি নেতারা মতামত দিতে পারেন। কিন্তু জোর করে মনোনীত ব্যক্তিকে পদে বসাতে পারবেন না। কারণ পার্টির চেয়ারম্যান আগে লন্ডনে ছিলেন। তিনি এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি এখন সরাসরি সাংগঠনিক সব বিষয় মনিটরিং করছেন।

প্রশ্ন: আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলে আপনার বিরুদ্ধে কয়টি মামলা হয়েছিল আর জেলে গিয়েছিলেন কয়বার?

উত্তর: আমার বিরুদ্ধে ৫৮টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। আর জেলে গিয়েছি ৬ বার। শুধু মামলা আর জেল নয়, ২০১৮ সালে পুলিশ আমাকে ক্রসফায়ারে দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল। চকবাজার-বাকলিয়া এলাকায় আমার রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তৎকালীন চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আমাকে ক্রসফায়ারে দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু থানা থেকে এই খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর আমি গা ঢাকা দেওয়াতে বেঁচে যাই।

প্রশ্ন: আপনি তো চট্টগ্রাম-৯ আসনের বাসিন্দা। সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানের কর্মকাণ্ড কেমন দেখছেন?

উত্তর: এমপি হওয়ার পর সংসদীয় এলাকায় তিনি সক্রিয় আছেন। প্রতিদিন রাজনৈতিক না হয় সামাজিক কোনো না কোনো অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন। দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে আমাদের একটা দুঃখ হলো, অতীতে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে যারা এমপি হয়েছেন তারা মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু সুফিয়ান ভাইকে মন্ত্রী করা হয়নি। আমরা আশা করবো, সরকার যেন সুফিয়ান ভাইকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেন।

রাজনীতি সংবাদ: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

এমদাদুল হক বাদশা: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন:

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় যারা

চট্টগ্রাম সিটির মেয়র পদে বিএনপিতে আলোচনায় দুই নাম

চট্টগ্রামে অভিনব কায়দায় যুবদল নেতার চাঁদাবাজি ও জমি দখলের চেষ্টা

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর