বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগে নৌকা আর ধানের শীষ ছিল। এবার নৌকা নাই, নৌকার কান্ডারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ফেলে ভারতে চলে গেছেন। দিল্লিতে গিয়ে বসে আছেন, তিনি দেশে থাকলে অন্তত একটা গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করতো।
আজ সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী পাইকপাড়া গ্রামে গণসংযোগের অংশ হিসেবে নির্বাচনী পথসভায় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এবার নতুন একটি মার্কা এসেছে। যারা স্বাধীনতার সময় বিরোধিতা করেছিল, তারাই সরকার গঠন করতে চায়।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি বিএনপির পক্ষ থেকে এসেছি; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, শহীদ জিয়ার দল, বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমি আপনাদের কাছে খুব একটা অপরিচিত নই, আপনারা আমাকে চিনেন। এখানে সবাই আমার ছাত্র, এ জন্য সবাই আমাকে আলমগীর স্যার ডাকেন। ওই নামেই পরিচিত এখানকার বাচ্চা-কাচ্চারা আমাকে স্যার ডাকেন। এতো আদরের নাম, প্রিয় নাম আর হয় না। আপনাদের কাছে এই ভালোবাসাই চাই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা ১৫ বছর অনেক কষ্ট করেছি ওই কথাটা আর বলতে চাই না। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের অনেকে জেলে গেছেন। চুরি না, ডাকাতি না, ভোট দেওয়ার জন্য ওদেরকে জেলে দেওয়া হয়েছে। আমি ১১৭টা মামলার আসামি ছিলাম। জেলে গেছি ১১ বার, আর ৬ বছর জেলে ছিলাম। যারা জেল খাটছে তারা জানে জেল কী জিনিস।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা মাথা নিচু করিনি, মাথাটা উঁচু করে আছি। আমরা ন্যায়ের পথে আছি, সত্যের পথে আছি। আমরা ভোট দিতে চাই। সোনাদানা গহনা তো চাই না। ভোটটা আমার অধিকার, ভোটটা আমাদেরকে দিতে দেয় নাই হাসিনা সরকার। যারা দিতে গিয়েছে তাদেরকে জেলে দিছে, গুলি করেছে। তারা এখন ছাত্র আন্দোলনে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগ করতো, নৌকাতে ভোট দিতো শেখ হাসিনা তাদেরকে বিপদে রেখে দেশ ছেড়ে পালালো। এ রকম নেতা আমরা চাই না। যে বিপদে রেখে চলে যাবে। আমরা দেশ ছেড়ে চলে যাইনি। আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, অন্য কোনো দেশে আমার বাড়ি নাই বাংলাদেশে আমার বাড়ি। এখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বেগম জিয়ার জানাজায় মাঠের কোনো জায়গায় ফাঁকা ছিল না। গোটা বাংলাদেশের লোক গেছিল তার জানাজায় শরিক হতে।’
আরও পড়ুন: দিল্লিতে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ
