রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময় : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার ক্রিকেটারদের সঙ্গে ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
টানা কয়েক সপ্তাহের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর বাংলাদেশের সামনে কার্যত দুটি পথই খোলা ছিল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অথবা পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়ানো। শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে অনড় থাকলো বিসিবি।
গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়া আইসিসির সেই বৈঠকে বেশিরভাগ সদস্য বাংলাদেশের বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় টাইইগারদের বিশ্বকাপ ম্যাচের ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া যায়নি। ফলে ভারতে গিয়েই বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেয় আইসিসি।
আইসিসির এমন সিদ্ধান্তের পর একদিন সময় চেয়ে নিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যাবে কি না তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ বিসিবি এবং ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যাবে না।
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধে সুবিচার করেনি। সরকারের পক্ষ থেকেই ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেই অবস্থানে তারা দৃঢ়ভাবে অনড়।
আসিফ নজরুল বলেন, আমরা সবাই স্বাভাবিকভাবেই চাইতাম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু ভারতে খেলার ক্ষেত্রে যে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, সেটির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই আশঙ্কা কোনো অনুমান বা বায়বীয় বিশ্লেষণ থেকে তৈরি হয়নি, বরং বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত।
ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করা হয়, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণেই বাংলাদেশের এই অবস্থান এবং সেই উদ্বেগ এখনো বহাল রয়েছে।
এরপর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ এখনও চায় তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক। তিনি বলেন, আমরা বিকল্প ভেন্যুর দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাবো।
কট্টরপন্থীদের আন্দোলনের মুখে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের একটি দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে আইসিসি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
এ প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মুস্তাফিজ নিজে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়াননি, তার কোনো ইনজুরি ছিল না এবং বিসিবিও তার এনওসি বাতিল করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পরই আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং বিকল্প ভেন্যুতে খেলার দাবি জানাই।
বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দাবির বিষয়ে কী অবস্থান নেয়।
আরও পড়ুন: ভারতে না খেললে বাদ পড়বে বাংলাদেশ, খেলবে বিকল্প দল
