, | |

মূলপাতা আঞ্চলিক রাজনীতি

রাউজানে যাচ্ছেন গোলাম আকবর, ‘সংবর্ধনা’ দেবেন গিয়াস কাদের!


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:০২ : অপরাহ্ণ

দলীয় মনোনয়ন পেয়ে রোববার (৪ জানুয়ারি) রাউজানে ‘শোডাউন’ করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার। রাউজানে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও। গোলাম আকবর রাউজানে গেলে গিয়াস কাদের তাকে ‘সংবর্ধনা’ দেবেন বলে রাজনীতি সংবাদকে জানিয়েছেন।

সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ইসালে সওয়াবের জন্য রোববার দুপুরে রাউজানে নিজ বাড়িতে দলীয় নেতাকর্মীদের মেজবান খাওয়াবেন গোলাম আকবর। মেজবানকে কেন্দ্র করে সকাল ১১টায় তিনি নিজ রাউজানের বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা করবেন। রাউজানে সভার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে এসেছেন তিনি।

গোলাম আকবর খোন্দকারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) অর্জুন কুমার নাথ আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজনীতি সংবাদকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক দুই কান্ডারি গিয়াস কাদের ও গোলাম আকবরের মধ্যে সম্পর্ক ‘সাপে-নেউলে’। দুই নেতার বিরোধকে কেন্দ্র করে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে ছয়টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। রাউজানে গিয়াস কাদের চৌধুরীর বাড়ি গহিরা ইউনিয়নে। আর গোলাম আকবরের বাড়ি চিকদাইর ইউনিয়নে। দুই নেতার বাড়ির দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার।

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, গোলাম আকবর রোববার গিয়াস কাদেরের নাকের ডগায় গিয়ে শোডাউন করে অস্তিত্ব জানান দেবেন। তিনি চট্টগ্রাম নগরী থেকে শতাধিক নেতাকর্মীর বহর নিয়ে রাউজানের নিজ বাড়িতে যাবেন।

গোলাম আকবরের রাউজান যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘সে (গোলাম আকবর) যদি রাউজানে আসে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সে সংবর্ধনা পাওয়ার যোগ্য। কারণ সে একজন সাংঘাতিক ত্যাগী নেতা। আমি আর আমার পরিবারের কোনো ত্যাগ নেই। সে ১৭ বছর অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে, এটার তো স্বীকৃতি দিতে হবে। সে তো ড. হাছান মাহমুদের (আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক) ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। সেই সুবাদে সে ১৭ বছর রাউজানে সচরাচর আসা-যাওয়া করেছে। এলাকায় এসে মেজবানও খেয়েছে, বিবাহ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত হতে পেরেছে। আমি তো ১৭ বছর রাউজানে আমার বাবার কবরেও আসতে পারিনি।’

গোলাম আকবরের সাথে আপনার দ্বন্দ্বের কারণ কী?-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তার সাথে আমার ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তার বাবা আমার বাবার একনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ছিল।’

গিয়াস কাদেরের অনুসারী এক ছাত্রদল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি, গোলাম আকবর কখন রাউজানে আসবেন। তাকে আমরা সংবর্ধনা দেবো।’

গত ২৯ জুলাই রাউজানে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গোলাম আকবরের ওপর হামলা করা হয়। হামলায় তিনি রক্তাক্ত হন। তার জিপগাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনার জেরে ওই দিন রাতেই চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্র। একই সাথে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাইস চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করা হয়।

রাউজানে আপনার ওপর আবার কোনো হামলার আশঙ্কা করছেন কিনা জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আর কোনো হামলা করতে পারবে না। কারণ রাউজানের জনগণ আমার সাথে আছে। রাউজানের সাধারণ মানুষ কোনো সন্ত্রাসীর সাথে নেই।’

গত ২৭ ডিসেম্বর গোলাম আকবরকে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে দলীয় মনোনয়নপত্র দেয় বিএনপি। এর আগে ২০ ডিসেম্বর গিয়াস কাদেরকে মনোনয়নপত্র দিয়েছিল বিএনপি। দুই নেতার মধ্যে কে চূড়ান্ত প্রার্থী তা বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়নি। এ নিয়ে রাউজানে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। দুই নেতার মধ্যে শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছেন নেতাকর্মীরা। রাউজান ছাড়া চট্টগ্রামে বাকি ১৫টি আসনে একক প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি।

জানা গেছে, কোনো আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলে নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই একজনকে চূড়ান্ত করতে হবে সংশ্লিষ্ট দলকে। সে হিসেবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই বিএনপি নির্বাচন কমিশনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রেরণ করবে।

তবে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন গিয়াস কাদের চৌধুরী। গত ২৯ ডিসেম্বর বিকেলে চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেয় গিয়াস কাদের চৌধুরীর প্রতিনিধিদল। একই সাথে রাউজান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন গিয়াস কাদের চৌধুরীর ছেলে সাকের কাদের চৌধুরী।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমি বীমা (এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দিবে বলে নিশ্চয়তা দিয়ে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়) করেছি।’

যদি দল থেকে আপনাকে বহিষ্কার করা হয়?-এই প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির এই কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান জবাব দেন, ‘নো প্রবলেম।’

রাউজানের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অনেকে ধারণা করছেন, গিয়াস কাদের চৌধুরী যদি দলীয় মনোনয়ন না পান তাহলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। কিন্তু গোলাম আকবর দলীয় মনোনয়ন পেলেও গিয়াস কাদেরের কাছে ‘পরাস্ত’ হবেন।

রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি এম শাহজান সাহিল রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘গিয়াস কাদেরকে মোকাবিলা করার মতো শক্তি ও সামর্থ গোলাম আকবরের নেই। রাউজানে গোলাম আকবরের সাংগঠনিক কোনো অবস্থান নেই। তার কোনো কর্মী নেই। তিনি রাউজানে কখনো রাজনীতি করেননি। তিনি জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রাজনীতি করেছেন। রাউজানের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ চেনে গিয়াস কাদেরকে। গোলাম আকবর রাউজানে আসলে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, এতোদিন কোথায় ছিলেন? দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তার ওপর ক্ষেপে যাবেন।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের বিতর্কিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে বিনাভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গোলাম আকবর খোন্দকার। এই সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র চার মাস। অপরদিকে বিএনপির প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির হয়ে চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০০১ ও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে রাউজানে এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর কাছে হেরে গিয়েছিলেন গিয়াস কাদের চৌধুরী। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গিয়াস কাদের চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তখন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন জসিম উদ্দিন সিকদার।

আরও পড়ুন: সাঈদ আল নোমানের কাছে হেরে গেলেন আমীর খসরু!

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর