, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচন স্থগিত


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ৩:০৯ : অপরাহ্ণ

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন স্থগিত করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে ১ নভেম্বর চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচন হচ্ছে না।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রায় দেন।

রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী সাইফুল আলম চৌধুরী রাজনীতি সংবাদকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অ্যাডভোকেট সাইফুল আলম চৌধুরী জানান, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচন স্থগিত করে দিয়েছে। এখন হাইকোর্টে এই রিট নিষ্পত্তি হবে। তবে হাইকোর্টে রিটের শুনানির তারিখ আজ ধার্য্য হয়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আপিলের শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

রিটকারীর পক্ষে আপিলের শুনানিতে অ্যাডভোকেট শিশির মনির, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরসহ আরও অনেক আইনজীবী অংশ নেন।

চিটাগাং চেম্বারের অর্ডিনারি মেম্বার মোহাম্মদ বেলাল গত ১৯ অক্টোবর হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করেছিলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চিটাগাং চেম্বারের বিতর্কিত টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আদেশ চ্যালেঞ্জ করে তিনি এই রিট দায়ের করেন। গত ২২ অক্টোবর হাইকোর্টে এই রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ স্থগিত করে দেয়। টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ ছাড়া নির্বাচন করার আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার চেম্বার জজ আদালতে এই রিটের বিরুদ্ধে আপিল করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার ও বুধবার আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বুধবার চেম্বার জজ আদালত শুনানি শেষে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে হস্তক্ষেপ না করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।

গত ২০ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে তাদেরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ না দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু গত ৪ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোনো এক অজানা কারণে তাদের এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দেয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই ‘দ্বৈত অবস্থান’ নিয়ে চট্টগ্রামের সাধারণ ব্যবসায়ীরা তীব্র সমালোচনা করেন। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে চট্টগ্রাম গার্মেন্টস এক্সেসরিজ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল গত ১৯ জুলাই হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

এদিকে গত ২৮ অক্টোবর এফবিসিসিআইয়ের আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে (সালিশি আদালত) চিটাগাং চেম্বারের টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ নিয়ে পৃথক তিনটি অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল সেদিন কোনো আদেশ দেয়নি। নির্বাচনের বিষয়টি আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেয় ট্রাইব্যুনাল।

চিটাগাং চেম্বারের টাউন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠান হলো চারটি। এগুলো হলো-পটিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বোয়ালখালী অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, হাটহাজারী অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং রাঙ্গুনিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

অপরদিকে ট্রেড গ্রুপেরও সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠান হলো চারটি। এগুলো হলো-চিটাগাং ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যালস ইমপোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ, চিটাগাং মিল্ক ফুড ইমপোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ, চিটাগাং টায়ার টিউব ইমপোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ এবং চট্টগ্রাম ক্ষুদ্র পাদুকা শিল্প মালিক গ্রুপ।

তবে নির্বাচনে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকে না। নির্বাচনে এই দুটি ক্যাটাগরি থেকে তিনজন করে মোট ছয়জন প্রার্থী হন। এই দুই ক্যাটাগরি থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেলিগেট মেম্বাররা সমঝোতার ভিত্তিতে যে ৬ জনকে প্রার্থী করেন তারা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ চট্টগ্রাম-১১ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ লতিফের ‘পকেট ভোট’ নামে পরিচিত। এই দুই ক্যাটাগরি থেকে তিনি যাদের প্রার্থী সিলেকশন করতেন তারা বিনাভোটে পরিচালক নির্বাচিত হতেন।

এম এ লতিফের সেই ‘পকেট ভোট’ টাউন ও ট্রেড এখন হাতের মুঠোয় নিয়েছেন চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছোট ভাই। আমীর হুমায়ুন টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে কব্জায় নিয়ে চেম্বারের নির্বাচনে ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’ নামে একটি প্যানেল দিয়েছেন। এই প্যানেলের লিডার হলেন সীকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিরুল হক। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ লতিফের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০০৮ সালের চেম্বার নির্বাচনে লতিফের প্যানেল থেকে বিনা ভোটে পরিচালক হয়েছিলেন।

নির্বাচনে ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’ নামে অপর প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এস এম নুরুল হক। তিনি চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হকের ছোট ভাই।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচন স্থগিত করে দেওয়ায় চট্টগ্রামের সাধারণ ব্যবসায়ীরা উচ্ছ্বসিত হয়েছেন। তারা বলছেন, নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরীর ‘পকেট ভোট’ নিয়ে চেম্বারে রাজত্ব করার স্বপ্ন ভেস্তে গেছে।

আরও পড়ুন:

চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচনে জোট বাঁধলো আ.লীগ-বিএনপির দুই ব্যবসায়ী

চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচনে বিএনপি-আ.লীগ ‘সমঝোতা’

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর