বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল দাবি করে কোটি কোটি, লাখ লাখ মানুষের দল নাকি তাদের। এই কোটি কোটি, লাখ লাখ মানুষের হিসাব আমাদের দেখায়েন না।
জুলাই পদযাত্রার ১১তম দিনে আজ শুক্রবার বিকেলে যশোরে জজকোর্ট মোড়ে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপি যশোর জেলা শাখা এ পথসভার আয়োজন করে। এতে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।
পথসভায় বিএনপিকে ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের আমলে দেখেছি কত মানুষ ছিল তাদের। সেই মানুষেরা কত আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা ১০ জন মানুষ দাঁড়িয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আপনারা ১০ জন, ২০ জন, ১০০ জন মানুষ নিয়েই আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। হাজারে হাজারে লাখ লাখ মানুষ আবাবিল পাখির মতো আমাদের সঙ্গে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল। ফলে মানুষের হিসেব আমাদের দেখিয়েন না।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে যদি এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, নৈতিকতার সঙ্গে থাকেন, ইনসাফের সঙ্গে থাকেন, তাহলে একজন মানুষ লাখ মানুষের সমান শক্তিশালী হয়ে যান। ইনশাল্লাহ আমরা সেই একজন মানুষ হতে চাই। আমরা দায় ও দরদের ইনসাফ ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই। যারা ইনসাফের পক্ষে দাঁড়াবে, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবে, যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে তেমন রাষ্ট্র চাই। যেখানে সমাজের সব ধরনের মানুষ সমান হক নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন একসঙ্গে চাই। বিচার-সংস্কার ছাড়া বাংলার জনগণ নির্বাচন মেনে নেবে না। যারা বিচার, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন চায়, তারাই নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। নির্বাচন ও ভোটাধিকারের পক্ষে সত্যিকারের লড়াই করে যাচ্ছে এনসিপির নেতৃবৃন্দ।
যশোর জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যা তুলে ধরে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, যশোরের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতি হয়নি। যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা কেয়ার ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। সেখানে আইসিইউ চালু হয়নি। যশোরের মানুষকে চিকিৎসার জন্য খুলনায় যেতে হয়। আমরা চাই যশোরের মানুষ যশোরেই সেবা পাবে, যশোরেই শিক্ষা পাবে। ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার কথা আমরা জানি। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যায় মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। এই সমস্যা দূর করার দায়িত্ব এনসিপির নেতৃবৃন্দকে নিতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা দুর্নীতি করবে এনসিপি তাদের ছাড় দেবে না। যদি এনসিপির নেতাকর্মীরাও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয় দল তাদের বিরুদ্ধেও মাঠে নামবে। আমাদের আগামীর আন্দোলন দুর্নীতি ও চাঁদাজির বিরুদ্ধে।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, কেউ কেউ এনসিপিকে নির্বাচনবিরোধী দল হিসেবে ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এনসিপি কখনও নির্বাচনবিরোধী দল নয়। আমরাও নির্বাচন চাই। তবে বিচার, সংস্কারসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দাবির প্যাকেজ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন চাই না। প্রয়োজনে এসব দাবি বাস্তবায়নে আরেকবার গণঅভ্যুত্থান ঘটানো হবে। যারা এর বিরোধিতা করবে তাদের লাল কার্ড দেখানো হবে।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলমের সঞ্চালনায় পথসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, মুখ্য সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, ডা. তাসনিম জারা প্রমুখ।
পথসভা শেষে এনসিপির পদযাত্রা খুলনার উদ্দেশে রওয়ানা হয়।
আরও পড়ুন: শৈশবে হারিয়ে গেলেন নাহিদ-হাসনাত-সারজিসরা!
