, | |

মূলপাতা আঞ্চলিক রাজনীতি

সমালোচনার মুখে চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন


প্রকাশের সময় :৩১ মে, ২০২৫ ৮:০২ : অপরাহ্ণ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ না নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে তিনি রাঙ্গুনিয়ায় যাননি, অংশ নেননি নগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণ সভায়।

৩০ মে (শুক্রবার) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ছিল। এ উপলক্ষে আগের দিন বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি রাঙ্গুনিয়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সেখানে যান। কিন্তু তাদের সঙ্গে ছিলেন না সিটি মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

এরপর গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর মুরাদপুরে এলজিইডি ভবন মিলনায়তনে জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এস এম আবদুল আউয়াল, ১ নম্বর বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম আর দুই নম্বর বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। কিন্তু এ কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নেননি।

নগর বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ না নিলেও ডা. শাহাদাত আজ শনিবার সকালে নগরীর ২ নম্বর গেট বিপ্লব উদ্যানে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে ডা. শাহাদাত হোসেন রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটা জরুরি সভায় অংশ নিতে আমি ঢাকায় চলে গিয়েছিলাম। তাই রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াউর রহমানের মাজারে যেতে পারিনি। আর গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার ফ্লাইটে আমি ঢাকা থেকে রওনা দিই। কিন্তু ফ্লাইটটা বিমানবন্দরে অবতরণ করতে আধা ঘণ্টা সময় বিলম্ব করে। সার্কিট হাউজে পৌঁছতে সন্ধ্যা ৬টা বেজে যায়। এরপর জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে একটি আলোচনা সভায় অংশ নিই। যে কারণে এলজিইডি ভবনে বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারিনি।’

জানতে চাইলে নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‌‘তিনি (ডা. শাহাদাত হোসেন) কেন কর্মসূচিতে অংশ নেননি সেটা আমাদের জানা নেই। সেটা তিনি ভালো বলতে পারবেন। রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াউর রহমানের মাজারে যাবেন কি যাবেন না সে ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে তিনি কোনো কথা বলেননি। আর এলজিইডি ভবনে জিয়াউর রহমানের স্মরণ সভায় তিনি উপস্থিত থাকবেন বলে বিএনপির এক সদস্যের মাধ্যমে আমাদের জানায়। এরপর আমরা অনুষ্ঠানের ব্যানারে বিশেষ অতিথি হিসেবে তার নাম দিই। ব্যানারে বিশেষ অতিথি হিসেবে নাম দেওয়ার পর তিনি দলের একজন নেতাকে জানালেন, ঢাকা থেকে আসতে পারবেন না। একটা কাজে আটকে গেছেন।’

 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর কর্মসূচিতে ডা. শাহাদাত হোসেন অংশ না নেওয়ায় নগর বিএনপির নেতাদের অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। এ নিয়ে গত দুদিন ধরে ডা. শাহাদাতকে নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে।

নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘তিনি (ডা. শাহাদাত হোসেন) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। বৃহস্পতিবার ব্যস্ততার কারণে তিনি রাঙ্গুনিয়ায় যেতে না পারলেও পরে তো মেয়র হিসেবে সেখানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারতেন। তিনি তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন নেতা। তিনি কেন এমন করলেন আমরা বুঝতেছি না।’

নগর বিএনপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘এলজিইডি ভবনে জিয়াউর রহমানের স্মরণ সভার ব্যানারে ডা. শাহাদাত হোসেনের নাম ছিল। যেহেতু ব্যানারে নাম ছিল তার আসা উচিত ছিল।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৭ জুলাই এরশাদ উল্লাহকে আহ্বায়ক ও নাজিমুর রহমানকে সদস্য সচিব করে কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দুই সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে গত বছরের ১৪ জুন ডা. শাহাদাত হোসেন ও আবুল হাশেম বক্করের নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

দলের মধ্যে প্রচার আছে, থানা-ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে শাহাদাত-বক্করকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শাহাদাত-বক্করকে নেতৃত্ব থেকে মাইনাস করার পর তাদের সঙ্গে এরশাদ উল্লাহ ও নাজিমুর রহমানের তলে তলে বিরোধ চলে আসছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অভিনব কায়দায় যুবদল নেতার চাঁদাবাজি ও জমি দখলের চেষ্টা

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর