, | |

মূলপাতা আঞ্চলিক রাজনীতি

দেশের ১৮ কোটি মানুষ আওয়ামী লীগকে চায় না: মির্জা ফখরুল


আজ চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে তারুণ্যের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রকাশের সময় :১০ মে, ২০২৫ ৮:১৭ : অপরাহ্ণ

দেশের ১৮ কোটি মানুষ আওয়ামী লীগকে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আমরা এখানে সমাবেশ করছি। আরেকটা সমাবেশ হচ্ছে নিউমার্কেট আর ঢাকায়। দাবিটা কী? আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ আওয়ামী লীগকে চায় না। তারা দেশে ফ্যাসিবাদ বাকশাল কায়েম করেছে।’

আজ শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে সমাবেশে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার,রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, ফেনী, কুমিল্লা ও বি-বাড়ীয়া জেলার নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল অংশ নেন।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এক-দুজন নয়, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অত্যাচারে লাখ লাখ মানুষ নির্যাতিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে। ১৫ বছর সে গোটা জাতির ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ২০ হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করেছে। ১ হাজার ৭০০ বেশি মানুষকে গুম করেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে ছয় বছর কারাগারে অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছিল। আমাদের নেতা তারেক রহমান যার দিকে বাংলাদেশ তাকিয়ে রয়েছে, তিনি এখনো দেশে ফিরতে পারেননি। এই অবস্থার অবসান হয়েছে শুধু আমাদের তরুণ ভাইদের জন্য।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অস্বাভাবিক সময় পার করছে দেশ। হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার প্রেতাত্মারা এখনও রয়ে গেছে। দেশকে তারা অস্থিতিশীল করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। তবে তরুণদের সামনে তারা সফল হবে না। মাথা ঠান্ডা রেখে সব ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ব্যর্থ করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রথম সংস্কার করেছেন জিয়াউর রহমান, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, অর্থনীতির আজকে যে ভিত্তি গার্মেন্টস সেক্টর সেটাও জিয়াউর রহমানের অবদান। কেয়ারটেকার ব্যবস্থা এনেছেন খালেদা জিয়া। আজকে সবাই সবকিছু ভুলে যায়। বিদেশ থেকে এসে বড়বড় কথা বললে মানুষ ভুলে যাবে তাই না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের তরুণরা ব্যবসা চায়, চাকরি চায়। তরুণ সমাজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তি চায়। একটা গণতান্ত্রিক দেশ চায়, যে যার কথা বলবে। আমরা সে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আজকে তারুণ্যের সমাবেশের একটা উদ্দেশ্য, তরুণরা আবার জেগে উঠো সব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেছেন গণতান্ত্রিক দেশের জন্য, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন। তারেক রহমান আধুনিক বাংলাদেশ করতে চান। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে কিছু চাই না। এজন্য তারেক রহমান বলেছেন- সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি বলেছেন- ‘ফয়সালা হবে রাজপথে, সেটাই হয়েছে।’’

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘কারো যদি দর্শন থাকে, ভাবনা থাকে, কর্মসূচি থাকে তাহলে তাদেরকে জনগণের কাছে যেতে হবে। কিন্তু কারো স্বার্থের জন্য দেশকে জিম্মি করা যাবে না। মানুষের মধ্যে নতুন যে ভাবনা এসেছে তা বুঝতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করে সে আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করতে হবে।’

এ বিএনপি নেতা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু হয়েছে, এটা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। গণতন্ত্রের পথে কেউ যাতে রুদ্ধ করতে না পারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে এগিয়ে যাবো, কারো উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। এটা তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত।’

দেশের ১৮ কোটি মানুষ আওয়ামী লীগকে চায় না: মির্জা ফখরুল

সমাবেশে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নই, আমি একজন স্পোর্টসম্যান। আমরা চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ থেকে ১০/১৫ বছর আগে দেশের বিভিন্ন ক্রীড়াঙ্গনে চট্টগ্রাম থেকে অনেকে ক্রীড়াবিদ প্রতিনিধিত্ব করতেন। আমার সঙ্গে চট্টগ্রামের খেলাধুলা নিয়ে হেলাল ভাই (মীর হেলাল), ইসরাফিল ভাই (ইসরাফিল খসরু) এবং হুম্মাম ভাইয়ের (হুম্মাম কাদের চৌধুরী) কথা হয়। আমরা কিভাবে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনকে আগের মত নিয়ে আসতে পারি। আমি নিশ্চিত, উনারা যখন সুযোগ পাবেন চট্টগ্রামের ক্রীড়ার উন্নয়নে কাজ করবেন।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীর সভাপতিত্বে এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্নার, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ও ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে আবারও ‘মার্চ টু ঢাকা’

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর