রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪ | ৩০ আষাঢ়, ১৪৩১ | ৭ মহর্‌রম, ১৪৪৬

মূলপাতা আঞ্চলিক রাজনীতি

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়ার নেপথ্যে


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম প্রকাশের সময় :২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ৭:৫১ : অপরাহ্ণ
Rajnitisangbad Facebook Page

হঠাৎ করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের অধীন চারটি ইউনিট কমিটিও ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্র। এই চারটি ইউনিট কমিটি আজ বুধবার ভোর চারটার দিকে ঘোষণা করেছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের।

ইউনিট কমিটি ঘোষণার পর বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্র থেকে বোরহান ও তাহেরকে ‘লাল কার্ড’ দেখানো হয়।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির সঙ্গে সদ্য ঘোষিত ছয় ইউনিটের মধ্যে চারটি ইউনিট কমিটিও ভেঙে দেয় কেন্দ্র।

এই চার ইউনিট কমিটি হলো-বাঁশখালী আলাওল সরকারি কলেজ, বাঁশখালী উপজেলা, বাঁশখালী পৌরসভা এবং সাতকানিয়া সরকারি কলেজ।

তবে বোয়ালখালী উপজেলা ও বোয়ালখালী পৌরসভার কমিটি ভাঙা হয়নি।

ভেঙে দেওয়া চারটি ইউনিট কমিটির কোনটার মেয়াদ ছিল তিন মাসের জন্য, আর কোনটা ৩ বছরের জন্য। কিন্তু ১২ ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে দেওয়া হয় এসব কমিটি।

হঠাৎ কী কারণে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার ওপর ফুঁসেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ?

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের দাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে জেলা কমিটি ভেঙ্গে দিয়েছে কেন্দ্র।

কিন্তু সদ্য ঘোষিত ছয়টি ইউনিট কমিটি কেন ভেঙে দেওয়া হলো?

এ প্রশ্নের জবাবে আবু তাহের রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘এর কারণ কেন্দ্র আমাদেরকে জানাইনি।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন হয় ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর। অর্থাৎ তিন বছর আগে কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়।

কিন্তু দক্ষিণ জেলার আগে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয় ৭ বছর আগে। চট্টগ্রাম মহানগরের কমিটি গঠন হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর।

তাহলে মহানগরের আগে দক্ষিণ জেলায় কেন হাত দিলো কেন্দ্র? এর নেপথ্যে কারণ কী?

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একজন নেতা রাজনীতি সংবাদকে জানিয়েছেন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ঘোষিত ছয়টি ইউনিট কমিটি নিয়ে অন্তত ৫০ লাখ টাকার বাণিজ্য করেছেন বোরহান ও তাহের। তারা এসব কমিটি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় এমপিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। পদ বিক্রি করে তারা এসব ইউনিট কমিটি করেছেন। কমিটিতে ইয়াবা ব্যবসায়ী, অছাত্র, বিবাহিতসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়।

সূত্রটি জানায়, দুই উপজেলার দায়িত্বশীল আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় এমপিরা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের কাছে বোরহান ও তাহেরের বিরুদ্ধে কমিটি নিয়ে বাণিজ্য করার অভিযোগ দেন। এ ছাড়া অনেক ছাত্রলীগ নেতাও তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে নালিশ দেন। এসব খবর শুনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বোরহান ও তাহেরের ওপর চরম ক্ষেপে যান। এরপর তারা দক্ষিণ জেলার কমিটি ভেঙে দেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলুপ্ত ইউনিট কমিটির নেতারা এখন বোরহান ও তাহেরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের দাবি করেন, কমিটি নিয়ে বাণিজ্য করার কথা ভিত্তিহীন। আমরা যে বাণিজ্য করেছি তা কেউ প্রমাণ দিতে পারবে?

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন দুই বেলা ভাত খেতে পারি না, ছাত্রলীগ যে কী কষ্টে তা কেউ বুঝবে না।’

উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটিও ভেঙে দেয় কেন্দ্র।

আরও পড়ুন: সাংবাদিককে মারধর: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত

মন্তব্য করুন
Rajnitisangbad Youtube


আরও খবর