বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ২৫ মাঘ, ১৪২৯ | ১৬ রজব, ১৪৪৪

মূলপাতা আঞ্চলিক রাজনীতি

চট্টগ্রাম নগর আ.লীগের সম্মেলন না হওয়া নিয়ে মুখ খুললেন স্বপন


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ৬:৩৮ : অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন

আগামী ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের নির্দেশে গতকাল সোমবার সম্মেলন স্থগিতের কথা জানায় নগর আওয়ামী লীগ।

এর আগে গত ১ অক্টোবর ও ৪ ডিসেম্বর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

আগামী ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন। এর আগে চট্টগ্রাম মহানগরের সম্মেলন আয়োজনের সুযোগ নেই বলে ধারণা করছেন নেতারা। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই সম্মেলন।

তৃতীয় দফায় নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন পেছানো নিয়ে দলের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের সঙ্গে কথা হয় রাজনীতি সংবাদের

২০২১ সালের ২১ মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় জয়পুরহাট -২ আসনের সংসদ সদস্য স্বপনকে। এর আগে তিনি রংপুর বিভাগে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব ছিলেন।

আগামী ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের দিন চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব শেষ হচ্ছে স্বপনের।

নির্ধারিত সময়ে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন করতে না পারাটা নিজের ব্যর্থতা বলে মনে করেন তিনি।

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘আমি এর আগে রংপুর বিভাগের দায়িত্বে ছিলাম। সেখানে ২৮-৩০ বছর কমিটি হয়নি এমন ইউনিটে আমি সম্মেলন করেছি। কিন্তু চট্টগ্রাম মহানগরে আমি করতে পারিনি। এটা আমার ব্যর্থতা।’

আসলে কী কারণে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন দফায় দফায় পেছানো হচ্ছে?-এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নগরের সবকটি থানা-ওয়ার্ডের কমিটি সম্পন্ন না হওয়ায় সম্মেলন পেছানো হয়েছে। থানা-ওয়ার্ডের কমিটি না হলে তো মহানগরের সম্মেলন করা যাবে না।’

ওয়ার্ডের সম্মেলন শেষ হতে কেন বিলম্ব হচ্ছে?-এই প্রশ্নের উত্তরে স্বপন বলেন, ‘দুই-তিনজন নেতা, আমি তাদের নাম বলতে চাই না, তারা নানা অজুহাতে দফায় দফায় সম্মেলন স্থগিত করেছে। সামনে রোজা, তারপরে ঈদ, তারপরে কোরবানের ঈদ, তারপরে বলে পূজা, এরপরে ঈদে মিলাদুন্নবী-এভাবে নানা অজুহাত দাঁড় করিয়ে সম্মেলন বার বার পিছিয়ে নিয়ে গেছেন।’

কোন উদ্দেশ্যে এসব নেতারা ওয়ার্ডের সম্মেলন পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন-এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ডে বর্তমানে যেসব কমিটি আছে সেখানে তাদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে তারা হয়তো সম্মেলন করতে চাচ্ছেন না। কিংবা থানা-ওয়ার্ডের সম্মেলন সফল হলে কাউকে কৃতিত্ব নিতে না দিতে তারা এই কাজ করছে।’

তবে কি মহানগরের সম্মেলন অনিশ্চিত হয়ে গেলো-এই প্রশ্নের উত্তরে স্বপন বলেন, ‘মহানগরের নেতাদের যদি সদিচ্ছা থাকে, তাহলে তারা কেন্দ্রের আগেই মহানগরের সম্মেলন আয়োজন করতে পারেন। তারা চাইলে দ্রুত সময়ে থানা-ওয়ার্ডের সম্মেলন সম্পন্ন করতে পারেন।’

চট্টগ্রাম নগরের সম্মেলন করতে না পারাটা ব্যর্থতা বলছেন, কিন্তু আপনার সফলতা কী? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পলোগ্রাউন্ডের জনসভা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে পারাটা আমার সফলতা মনে করছি। লাখ লাখ মানুষের এই জনসভায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা হয়নি। জনসভার মঞ্চে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেওয়ার আগ পর্যন্ত আমি চেয়ারে বসিনি। একটানা দাঁড়িয়ে থেকে সবকিছু সমন্বয় করেছি। আমি চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ার পর নগর আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই পক্ষকে নিয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দফায় দফায় বৈঠক করে তাদের দূরত্ব কমিয়েছি। পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় এর সুফল পেয়েছি।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৬ জুন নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে। ঐ সম্মেলনে প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি এবং প্রয়াত কাজী এনামুল হক দানুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছিল। ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কাজী ইনামুল হক দানু মারা যান। এরপর ওই বছরের ১৪ নভেম্বর কেন্দ্র থেকে ৭১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি এবং আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর মহিউদ্দিন চৌধুরী মারা যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কারণে তিনি সব সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকতে পারেন না। ফলে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি অনেকটাই সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ‘দেশনেত্রী’ সম্বোধন করলেন এমপি লতিফ


আরও খবর