বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ২৫ মাঘ, ১৪২৯ | ১৬ রজব, ১৪৪৪

মূলপাতা আঞ্চলিক রাজনীতি

রাজশাহীর গণসমাবেশে জনসমুদ্র

এতো মামলা, এতো পেটানোর পরও বিএনপি মাটি ফুটে বেরিয়ে আসে: ফখরুল


রাজনীতি সংবাদ প্রতিনিধি, রাজশাহী প্রকাশের সময় :৩ ডিসেম্বর, ২০২২ ৬:৩১ : অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার ভাবে, বিএনপিকে এতো পেটায়, এতো মামলা দেই, তারপরও বিএনপি উঠে আসে কোত্থেকে? বিএনপি মাটি ফুটে বেরিয়ে আসে। এটাই বিএনপি।’

আজ শনিবার বিকেলে রাজশাহীর হাজী মুহম্মদ মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (মাদ্রাসা মাঠ) বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, জ্বালানি তেল, চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে দলীয় নেতাকর্মী হত্যা, হামলা এবং মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে এই বিভাগীয় গণসমাবেশ আয়োজন করে বিএনপি।

পরিবহন ধর্মঘট উপেক্ষা করে বিএনপির এই গণসমাবেশে লাখো নেতাকর্মী অংশ নেন। গণসমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ নিয়ে সরকারের ঘুম হারাম হয়ে গেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ঢাকার সমাবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগের ভয়ের শেষ নেই। তারা আতঙ্কে ভুগছে। কারণ তারা এই দেশে এমন কিছু কাজ করেছে যে নিজেদের (আওয়ামী লীগের) ওপর কোনো আস্থা নেই। এই বুঝি তাদের ক্ষমতা গেলো!’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৯টি বিভাগীয় শহরে শান্তিপূণ গণসমাবেশ করেছে বিএনপি। মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে বিএনপির সমাবেশে স্রোতের মতো আসছে। এতে সরকার দিশেহারা হয়ে গেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা তো নয়া পল্টনে অসংখ্য সমাবেশ করেছি, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ হয়েছে। তখন তো কোনো সমস্যা হয়নি। তাহলে এখন কেন সমস্যা হবে?’

সরকার জঙ্গি নিয়ে নতুন গল্প শুরু করেছে বলে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন তারা জঙ্গি নাটক শুরু করেছে। তারা জঙ্গি তৈরি করে বিএনপিকে ধরার জন্য। নিজেদের প্রয়োজনে জঙ্গি বানায়। নিজেরা নিজেরা বাস পোড়ায়, আর বলে বিএনপি করছে। গুরুদাসপুরে একটা দোকান, ওই দোকানের মধ্যে নাকি ককটেল পেয়েছে। ওরা নিজেরা রাখে, তারপরে বলে এটা বিএনপির লোকজন করেছে। বিএনপি অগ্নি সন্ত্রাস করে না। এটা ইতিহাসে নেই।’

আওয়ামী লীগ এখন রাজনৈতিক দল নয় উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা একটা লুটেরা দলে পরিণত হয়েছে। নিজেরা লুট করে করে সম্পদের পাহাড় করেছে। সাধারণ মানুষকে গরিব করছে। কয়দিন আগে ২৫ জন কৃষককে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নেওয়ার জন্য তাদের জেলখানায় নেওয়া হয়েছিল। আর হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে ব্যাংক খালি করে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা হয় না। কয়দিন আগে পত্রিকায় দেখলাম, ইসলামী ব্যাংক থেকে ৯টা গায়েবি কোম্পানিকে টাকা দিয়ে ব্যাংক খালি করে দেওয়া হয়েছে। সরকার পরিকল্পিতভাবে অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করেছি। ১৪-১৫ বছর ধরে নির্যাতিত হয়ে আসছি। আমাদের ভাই মারা গেছে, সন্তান মারা গেছে। অনেকে গুম হয়েছে। তাদের বাচ্চাগুলো জানে না তাদের বাবার কী অপরাধ ? আমাদের ইলিয়াস আলী গুম হয়ে গেছে। তার মেয়েটা এখনো দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে, যদি তার বাবা ফিরে আসে।’

আরও পড়ুন: তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকার এক ক্যাডারের কথা হয়েছে: কাদের

বিএনপির এই আন্দোলন মানুষের অধিকারের জন্য উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের এই আন্দোলন বিএনপির জন্য নয়। বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর জন্য নয়। তারেক রহমানের জন্য আন্দোলন নয়। আমাদের মন্ত্রী হওয়ার জন্যও নয়। এই আন্দোলন অধিকারকে ফিরে পাওয়ার আন্দোলন। আমরা দুবার ভোট দিতে পারলাম না। ভোটের অধিকার ফিরে পেতে আন্দোলন করছি।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে পদ্মার ঠান্ডা বাতাস গায়ে হু হু করে লেগেছে। তারপরও আপনারা এখান থেকে এক বিন্দুও সরেননি। রাজশাহীর মাটি সংগ্রামের মাটি। খেয়ে না খেয়ে থেকেছেন। কীসের ভালোবাসায়, কীসের তাগিদে আপনারা তিন ধরে এখানে কাটালেন? একটিমাত্র কারণ, আপনারা মুক্তি চান। ভয়াবহ দানবের হাত থেকে আপনারা মুক্তি চান।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, কী যেন নাম তার? ওবায়দুল কাদের সাহেব। তিনি বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কোন সংবিধান? যে সংবিধান তোমাদেরকে ক্ষমতায় রাখার জন্য বারবার কাটাছেঁড়া করেছ সেই সংবিধান? তিনটা অনুচ্ছেদ রেখেছে সংবিধানে, যার অধীনে একটা কথাও বলা যাবে না। সেই সংবিধান চলতে পারে না। এটাও সংশোধন হতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা এবার আন্দোলন শুরু করেছি। পরিষ্কার কথা-এবার হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে, নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সমস্ত দল এতে অংশগ্রহণ করবে। একটা পার্লামেন্ট গঠন হবে। সে সরকার নতুন করে দেশের অর্থনীতিকে সজীব করে তুলবে।’

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও ইকবাল মাহমুদ টুকু।

এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, হাবিবুর রহমান হাবিব, এম এ মতিন, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবদুল মান্নান তালুকদার, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহিলা দল সভাপতি আফরোজা আব্বাস প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈসা।


আরও খবর