, | |

মূলপাতা জাতীয়

নিউ ইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর ৩০ কর্মসূচি, ১১ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক


জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৪৪ : পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের নিউ ইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

মাহদী আমিন বলেন, এসব বৈঠক ও কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, জাতিসংঘের সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মরগান চেজ আয়োজিত একটি প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, এরপর প্রধানমন্ত্রী ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসাকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।

মাহদী আমিন বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই তিনটি বৈঠকেই বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, আরও জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের কর্মসূচির বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটিতে বক্তব্য দিয়েছেন। এর বাইরে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। উন্নয়ন অংশীদার ও স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। মাহদী বলেন, বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং এর চারটিতে বক্তব্য দিয়েছেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ডা. জুবাইদার বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র জানান, চার দিনে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা প্রায় ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন পর বিশ্বমঞ্চে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক সরকারের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে আরও সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামত হচ্ছে ‘থ্রি-আর’ কৌশলে, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

Rajniti Sangbad


আরও খবর