থ্রিলার! তা বললেও বুঝি কম বলা হয়। গোল, পাল্টা গোল, আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ-টানটান উত্তেজনা ও নাটকীয়তায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম রূপ নিয়েছিল এক চরম স্নায়ুযুদ্ধে। শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে গোল হয়েছে ৫টা। তবে ম্যাচে রঙ বদলেছে তার চেয়েও বেশি। কেপ ভার্দে লিওনেল মেসিদের ১২০ মিনিটের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চাপে রেখে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের রুখে দিয়ে ম্যাচ নিয়ে গেলো অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও জমিয়ে তুললো ম্যাচ। পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে দু’বার সমতা ফেরালো কেপ ভার্দে। তবুও শেষটা রঙিন হলো না তাদের। কষ্টার্জিত জয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে আকাশি-সাদারা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়াকে হারানো মিশর।
আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা আর কেপ ভার্দে। রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকে আর্জেন্টিনা। মাঝে মধ্যে কেপ বার্দের রক্ষণে হানা দিলেও বেশিরভাগ সময় কাটে মাঝমাঠেই। বিপরীতে, কেপ ভার্দে সুযোগ পেলেই প্রতিআক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে ডেডলক ভেঙে স্টেডিয়াম উল্লাসে ভাসান লিওনেল মেসি। লিসান্দ্রো মার্তিনেসের চমৎকার দূরপাল্লার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে কেপ ভার্দের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।
কিন্তু ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও বিরতির পর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে মরণকামড় দেয় কেপ ভার্দে। ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্দেসের নিচু ক্রস থেকে ডিফেন্সের ফাঁক গলে চমৎকার এক গোলে কেপ ভার্দেকে ১-১ সমতায় ফেরান দেরোয় দুয়ার্তে। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিটের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিটে।
ম্যাচের রোমাঞ্চ আরও বেড়ে যায়। ৯২ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া জটলায় বাঁ পায়ের কোণাকুণি শটে আর্জেন্টিনাকে আবার এগিয়ে নেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। কিন্তু ৩টি ড্র নিয়ে গ্রুপ পর্ব পার করা কেপ ভার্দে এত সহজে হাল ছাড়ার দল ছিল না। ১০৩ মিনিটে মাঠের আবহকে আরও নাটকীয় করে তোলেন বদলি খেলোয়াড় সিডনি ক্যাব্রাল। ইয়ানিক সেমেদোর পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের দর্শনীয় শটে গোল করে কেপ ভার্দেকে ২-২ সমতায় ফেরান তিনি। পেনাল্টি শুটআউটের শঙ্কায় তখন গ্যালারিতে চরম উত্তেজনা।
টাইব্রেকারের ভাগ্যপরীক্ষা যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, ঠিক তখনই ১১১ মিনিটে আসে আর্জেন্টিনার সেই কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোল। লিওনেল মেসির নিখুঁত কর্নার কিক থেকে বক্সে শূন্যে ভেসে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। যদিও দিনিয়ো বোর্গেসের হাত লাগার কারণে তা আত্মঘাতী গোল হিসেবে ধরা হয়েছে।
শেষ বাঁশি বাজার আগের মুহূর্তগুলো ছিল আরও রুদ্ধশ্বাস। ১১৫ মিনিটে মনতিয়েল হলুদ কার্ড দেখলে ফ্রি-কিক ও কর্নার আদায় করে আর্জেন্টিনার বক্সে রীতিমতো ঝড় তোলে কেপ ভার্দে। পুরো ম্যাচে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে বীরত্ব দেখালেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। গোলরক্ষক এমি মার্তিনেস ও রক্ষণের দৃঢ়তায় ৩-২ গোলের এই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা, আর বুক চিতিয়ে লড়াই করেও বিদায় নিতে হয় কেপ ভার্দেকে।
আরও পড়ুন: টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করে প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয়
