, | |

মূলপাতা রাজধানী

হাদিকে গুলি করা কে এই ফয়সাল?


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি ও সন্দেহভাজন ঘাতক ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:০২ : অপরাহ্ণ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক যুবককে শনাক্ত করেছে পুলিশ। বলা হচ্ছে, ওই ব্যক্তির নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। তার পরিচয় নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ফয়সাল করিম নামে এই ব্যক্তি কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের (এখন নিষিদ্ধ) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য হয়েছিলেন। তার পুরো নাম ফয়সাল করিম দাউদ খান।

হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারসহ বিভিন্ন জায়গায় তার সঙ্গে ফয়সালের সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ছবি রয়েছে। সেই ছবিগুলোতে থাকা ফয়সালের সঙ্গে আততায়ীর চেহারার সাদৃশ্য থাকায় গুলি ছোড়ার ঘটনায় তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে একই ব্যক্তির ছবি গণমাধ্যমে পাঠিয়ে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বলেছে, হাদির ওপর গুলির ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার ব্যাপারে তথ্য দিতে সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। এ ছাড়া ওসমান হাদিকে গুলি করা ব্যক্তিকে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

ফয়সাল করিম সম্পর্কে যা জানা গেলো
পেশাদারদের যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে ফয়সালের নামে প্রোফাইল আছে। সেখানে তিনি নিজেকে অ্যাপল সফট আইটি, ওয়াইসিইউ টেকনোলজি ও এনলিস্ট ওয়ার্ক নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

লিংকডইনের তথ্য অনুযায়ী, ফয়সাল ২০১৩ সালে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটারবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। পরে আরেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এমবিএ করেছেন বলে সেখানে উল্লেখ রয়েছে।

২০২৪ সালে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের দমনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠে ছিলেন বলে ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটি একটি প্রথম সারির গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে, ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য (রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানী নেতৃত্বাধীন কমিটি) ফয়সাল করিম দাউদ খান একই ব্যক্তি।

 

হাদিকে গুলির ঘটনায় নাম আসার পর করিমের সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশের দুইবারের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতার ছবি ফেসবুকে প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুলিতে তার মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাঁর ফুসফুসেও আঘাত রয়েছে। তাকে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে (অস্ত্রোপচার ছাড়া নিবিড় পর্যবেক্ষণে) রাখা হয়েছে।

ওসমান হাদির চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড আজ বিকেলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানায়।

গতকাল শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরের পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে সন্ধ্যার পর নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে সরকার পতনের আন্দোলন এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির কর্মকাণ্ড দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। অল্পদিনের মধ্যেই ওসমান হাদি দেশের মানুষের কাছে একজন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

ওসমান হাদি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা শহরের খাসমহল এলাকার মৃত মাওলানা সৈয়দ আব্দুল হাদির ছোট ছেলে। হাদির ওপর হামলার ঘটনার পর প্রতিবেশীরা ওসমান হাদিদের বাসায় ছুটে আসেন। তাদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় হাদির বোন মাহফুজা বেগম কান্নারত অবস্থায় বলতে থাকেন, পার্শ্ববর্তী দেশের গোয়েন্দা সংস্থা তোরে বাঁচতে দেবে না।

আরও পড়ুন:

হাদিকে গুলি করা সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ, সন্ধান দিলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার

যমুনায় গিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে যা বললেন হাদির বোন

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর