, | |

মূলপাতা জাতীয়

চীনের নীতি হচ্ছে বাংলাদেশের পছন্দকে মেনে নেওয়া


আজ রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ছবি: সংগৃহীত
প্রকাশের সময় :১১ মার্চ, ২০২৫ ৭:২৮ : অপরাহ্ণ

চীনের নীতি হচ্ছে বাংলাদেশের পছন্দকে মেনে নেওয়া উল্লেখ করে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু এবং অংশীদার চীন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থার যে কোনো পরিবর্তনে আমাদের নীতি একই রকম থাকে। এ দেশে যারাই সরকারে থাকুক, চীন তাদের অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।’

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে চীনের জাতীয় ভাবমূর্তি’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর অলটারনেটিভ আয়োজিত এই সেমিনারে ২০২৪ সালের একটি জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি জানান, জরিপে অংশ নেওয়া ৯৯ শতাংশ মানুষ চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সমর্থন করে।

২০২৪ সালে প্রায় ৬৭ শতাংশ বাংলাদেশি চীন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন, যা ২০২২ সালের ৬০ শতাংশ থেকে বেশি।

জরিপের ফলাফলে বলা হয়, অন্তত ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশি উচ্চশিক্ষার জন্য চীনে ব্যক্তিগতভাবে যেতে বা তাদের সন্তানদের পাঠাতে ইচ্ছুক, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি।

সেমিনারে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তাদের সঙ্গে কাজ করবে চীন। আমরা নির্দিষ্ট কোনো দল বা অংশীদারকে কেন্দ্র করে নীতি গ্রহণ করি না। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সহযোগিতা বাংলাদেশ ও চীনের সব জনগণের মঙ্গলের জন্য।’

ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘গণতন্ত্রের কোনো সার্বজনীন রূপ নেই এবং এটি দেশ থেকে দেশে ভিন্ন হতে পারে। কোনো দেশের জনগণ এটি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়।’

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সহায়তা দিচ্ছি। আমরা আশা করি, প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে এবং সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সব ধরনের সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে।’

ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের মানুষ কী চায়-সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে। চীনের অভূতপূর্ব উন্নয়নকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। চীন সম্পর্কে আমরা জানাতে চাই।’

মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়ছে জানিয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ৫৮টি ফ্লাইট চলাচল করছে। ওই সব ফ্লাইটে ১১ হাজার যাত্রী যেতে সক্ষম। চীনা সরকার যাত্রীসেবা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।’

আগামী ২৬-২৯ মার্চ প্রধান উপদেষ্টার আসন্ন চীন সফর সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘চীন বিশ্বের সব দেশের প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানায় এবং এ মুহূর্তে এ সফরের অগ্রাধিকার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।’

 

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর এবং সেন্টার ফর অলটারনেটিভের নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ ‘ন্যাশনাল ইমেজ অব চায়না ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন। সাবেক রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে সামস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও গবেষক সৈয়দ শাহনেওয়াজ মোহসিন বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে চলন্ত ট্রেনে হামলা, ৪৫০ যাত্রী জিম্মি

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর