, | |

মূলপাতা জামায়াতে ইসলামী

৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ ১১ দলীয় ঐক্যের


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশের সময় :৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:১৯ : অপরাহ্ণ

সাত দফা দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আগে ১০ অক্টোবর এই লংমার্চ পালন করার কথা ছিল। কিন্তু শারদীয় দুর্গাপূজার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৩১ অক্টোবর তৃতীয় এই লং মার্চ কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য।

আজ সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণসহ সাত দফা দাবিতে এই লং মার্চ কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য।

রুট অনুযায়ী, পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা এলাকায় লংমার্চেন একটি পথসভা হবে। এরপর মাদারীপুর, ভাঙ্গা ও ফরিদপুর হয়ে গোপালগঞ্জের দিকে যাবে গাড়িবহর। পরে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড়ে পথসভা করার কথা রয়েছে। এরপর রূপসা সেতু পার হয়ে খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর বা শিববাড়ী মোড়ে পথসভা হবে। সেখান থেকে ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে আরেকটি পথসভা করার কথা রয়েছে।

 

পরে যশোরের চাচড়া মোড়ে পথসভা শেষে গাড়িবহর ঝিনাইদহের উদ্দেশে যাবে। ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আরেকটি বড় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে রাত আনুমানিক ৯টার মধ্যে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল মাঠে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সময়ের হিসাবে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে, রাত ৯টার মধ্যে কুষ্টিয়া পৌঁছানোর চেষ্টা থাকবে। সেখানে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে লংমার্চ শুরু হবে। এরপর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ার দিকে যাবে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা। লংমার্চের যাত্রাপথে শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় পৃথক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এসব পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।

জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, চট্টগ্রাম ও রংপুরের দুটি লংমার্চ দেশবাসী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় সফল হয়েছে। এবারও প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাই আমরা।

লংমার্চের আগে দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। একইসঙ্গে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও তার সঙ্গে আচরণ, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর কুষ্টিয়ায় হামলা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ঐক্যের পক্ষ থেকে নিন্দা জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া ১১ দলীয় ঐক্যের এই নেতা বলেন, একের পর এক তেল, গ্যাসসহ বিভিন্ন জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং নিত্যপণ্যের দাম অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

লংমার্চের সাত দাবি উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের কয়েক মাসের শাসনে মানুষের দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে বাড়ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হয়েছে। এসব কারণেই তৃতীয় দফার লংমার্চ সময়োপযোগী।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর

Rajniti Sangbad


আরও খবর